শুক্রবার, ৪ জুলাই, ২০১৪

জাহিলিয়াতের মৃত্যু হল...

মুসনাদে আহমাদ এবং তাবারানিতে বিশুদ্ধ একটি হাদিস উল্লেখিত আছে। রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছিলেনঃ

من مات بغير امام مات ميتة جاهلية

“যে ব্যক্তি ইমাম (খলিফা) ছাড়া মারা গেল, তার মৃত্যু হল জাহিলিয়াতের মধ্যেই”

ইমাম আহমাদ ইবন হানবাল (র) কে জিজ্ঞাস করা হল এই হাদিসের ব্যাপারে। উনি বললেন, “তোমরা ‘ইমাম’ (খলিফা) কাকে বলে তা জান? ইমাম হল সেই জন যাকে ঘিরে পুরো উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ হবে”

তাই খিলাফাহ দ্বন্দ্ব তৈরি করবে না, বরং সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করবে।
ইসলামের সাথে কুফরের আদর্শিক সংগ্রাম সেই হাবিল কাবিলের সময় থেকেই, এবং কিয়ামত পর্যন্তই তা থাকবে। বর্তমানে নেতৃত্ব দেয়া পুঁজিবাদী সভ্যতার সাথে ইসলামের সংঘর্ষ বুঝতে হলে দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের ফ্রেমওয়ার্ক আমাদেরকে বুঝতে হবে।

পশ্চিমা সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখা এবং সেই সাথে ইসলামী খিলাফতের মাধ্যমে ইসলামী সভ্যতার উত্থানকে ঠেকানোর জন্য আদর্শিক পশ্চিমা কুফর শক্তি অনেকগুলো ক্ষেত্রে ইসলামের সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত আছে। এই দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে, বুদ্ধিবৃত্তিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক প্রভৃতি।

আজকে বুদ্ধিবৃত্তিক দ্বন্দ্বে তাদের পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরা হল।

১. গণমাধ্যমের উপর প্রভাব বিস্তার করে পুঁজিবাদী আদর্শের স্বার্থে প্রচারণা চালানো।

২. জীবন সম্পর্কে পশ্চিমা ধ্যান ধারণা তৈরি, ইসলামিক সভ্যতার ব্যাপারে হীনমন্যতা তৈরি করা, ইসলামের ইতিহাস বিকৃত করার লক্ষ্যে পশ্চিমা ধাঁচে সিলেবাস প্রণয়ন করা।

(ওরিয়েন্টালিস্টদের লেখা ইতিহাস পড়ে মুসলিমদের এক বিরাট অংশ ইসলামী সভ্যতার স্বর্ণযুগকে রাজতন্ত্র বা স্বৈরতন্ত্র মনে করে)

৩. পশ্চিমাদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা।

(লেবাননে AIUB বা American International University Of Beirut স্থাপনের মাধ্যমে কুফর শক্তি খিলাফত ধ্বংসে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে)

৪. পশ্চিমা জীবনব্যাবস্থা এবং মূল্যবোধের প্রতি আহবানকারী বিভিন্ন দল তৈরি করা, যারা পশ্চিমাদের আশীর্বাদে বেঁচে থাকে।

(BNP, BAL......)

৫. তাদের প্রোপাগান্ডায়, শিক্ষিত, এলিট শ্রেণী তৈরি করে জনগণের সামনে তাদেরকে চিন্তাশীল হিসেবে উপস্থাপন করা। এভাবে তাদেরকে মুসলিম উম্মাহর কন্ঠস্বর হিসেবে আখ্যা দেয়া।

(আওয়ামী বুদ্ধিজীবী তো আছেই, সেই সাথে বি এন পি পন্থী, আসিফ নজরুল, মাহফুয উল্ল্যাহ, এরাও কম যায়না)

৬. বিভিন্ন বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে, তাদের রাজনৈতিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দালাল তৈরি করা, গুপ্তচর তৈরি করা।

(ড. কামাল বোধহয় এরকমই একজন, এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের একজন দাঁড়িওয়ালা অধ্যাপকও এই কাতারে পড়েন, পশ্চিমাদের পা চাটা সবচেয়ে নিষ্ঠাবান গোলামদের একজন)

৭. বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ক্লাব, সেন্টার তৈরি করে তাদের চিন্তা ভাবনা, কৃষ্টি কালচার প্রচার করা, উপস্থাপন করা, এবং এগুলোর পিছনে অর্থ ব্যায় করা।

(খিলাফত ধ্বংসের সময়েও কুফর শক্তি, সাইন্স ক্লাব, ডিবেট ক্লাব, হিউম্যানিটারিয়ান ক্লাবের মাধ্যমে কুফর আক্বীদাহ, উম্মাহর মধ্যে প্রচলন ঘটায়। পশ্চিমাদের চিন্তার দাসত্ব করা অনেক নষ্ট প্যান্টের রোমিওদের আমাদের আশেপাশে আজও দেখা যায়)

৮. আরবী ভাষাকে জনগণের কাছে এলিট ভাষায় রূপান্তর করা, অন্য ভাষাকে প্রমোট করা, জাতীয়তাবাদী এবং দেশাত্মবোধক আবেগ ছড়িয়ে দেয়া। জাতীয় স্বার্থের নামে ভুল মানদন্ড প্রতিস্থাপন করা।

(আরবী ভাষা ইসলামের প্রাণ, এ থেকে দূরে রাখার মাধ্যমে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে উম্মাহকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে)






শুক্রবার, ৬ জুন, ২০১৪

খিলাফত প্রতিষ্ঠা ওয়াজিব। এ কাজ পালন না করলে সবাই গুনাহগার হবে।

খিলাফত প্রতিষ্ঠা ওয়াজিব। এ কাজ পালন না করলে সবাই গুনাহগার হবে।

(সূত্র, দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 Jigri Simon's photo.
 
 
 
 
 
 
 
 






বুধবার, ২ অক্টোবর, ২০১৩

ইসলামিক চেতনা ও রাসুল(সাঃ) এর পদ্ধতি




ইসলামিক চেতনা ও রাসুল(সাঃ) এর পদ্ধতি


কোন জাতির চেতনার উত্‍স মানে, "যেই উত্‍স হইতে ঐ জাতির ঐক্যবদ্ধ থাকিবার চেতনা মিলে এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে জাতিকে উদ্দীপ্ত করে।" ইসলামে জীবনবিধান এবং চেতনা একটি উত্‍স হইতেই আসে। তাহা হইল 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'ইসলামের বিজয়গাঁথা কিংবা মহান ইতিহাস আমাদিগকে প্রেরণা যোগায়, উদ্দীপ্ত করে। 

আইয়্যামে জাহেলিয়াতে ওইখানকার গোত্রপতিগণ  তত্‍কালীন মক্কার পার্লামেন্ট 'দারুন নদওয়াতে' মিলিত হইয়া তাহাদের গোত্রীয় বিধান তৈরী করিত। আবার তাহাদের প্রত্যেক গোত্রের আলাদা করিয়া মূর্তি ছিল। যাহা ছিল তাহাদের ঐক্য ও চেতনার উত্‍স। সবগুলো গোত্র আবার উঁচু পাহাড়ে  স্থাপিত দৈত্যাকার হুবাল মূর্তিকে শ্রদ্ধা করিত। মানে কিছু মূর্তি গোত্রীয় চেতনা জাগাইত আর লাত, মানাত, উজ্জা আর হুবাল জাতীয় ঐক্যের প্রতিক ছিল।


ইসলাম আসিয়া তাহাদের যেমন  আইন তৈরীর ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করে , তেমনি ঐক্যের প্রতিক এইসব মূর্তির অসারতা তুলিয়া ধরে। তখনি আবু জাহলরা খেপিয়া উঠে আর তাহাদের জাতীয় চেতনা জাগাইতে মক্কার কবিগণকে লাত, মানাত, উজ্জার মহিমা  নিয়া উদ্দীপক কবিতার আসর বসাইত। ঠিক তেমনি করিয়া নও মুসলিমদের যখন পিটাইত  তখন আবু জাহল, "ওয়া লাত ওয়াল উজ্জা" বলিয়া শপথ করিয়া পিটাইত। আর উমাইয়া ইবনে খালফ যখন একি শপথ করিয়া এই উম্মাহর লৌহপুরুষ হযরত বিলালকে(রাঃ) আঘাত করিতেছিল তখন ঐ ধৈর্য্যের পাহাড় চিত্‍কার করিয়া বলিতেছিলেন, "আহাদুন আহাদ"।

একি সময়ে রাসূল(সাঃ) কে প্রস্তাব দেওয়া হইতেছিল ঐ দারুন নদওয়াতে অংশগ্রহন করিতে। এমনকি ওইখানকার প্রধান হইয়া যাইতে। কিন্তু রাসূল(সাঃ) কোনরূপ কৌশলের নাম দিয়াও পরিপূর্ণ ইসলাম ব্যতিত ঐ সংসদে অংশগ্রহণ করেন নাই। আবার অনেক গোত্র বলিয়াছিল ঠিক আছে আমরা ইসলাম নিব তবে বছরে একদিন আমাদের মূর্তি হইতে চেতনা নিতে দাও। কিন্তু রাসূল(সাঃ) ইহাতেও রাজি হন নাই। ইহা ব্যতিত তায়েফের বনি আমর আল সাসা গোত্র প্রস্তাব দিল যে, ‘’আমরা ইসলাম মানিয়া নিব তবে তোমার( রাসুল (সাঃ) পরবর্তী আমরাই শাসক হইব।‘’ কিন্তু আল্লাহর রাসুল(সাঃ) কহিলেন, ‘’ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ হইতে আসে।‘’ অর্থাৎ শর্তহীন বায়’আত উনি চাহিয়াছিলেন। 

 অন্য একটা গোত্র সবকিছু মানিয়া নিয়া কেবল পারস্য রোম নামক তৎকালীন পরাশক্তির বিরোধিতা করিতে অস্বীকার করে। কিন্তু অইক্ষেত্রেও আল্লাহর রাসুল(সাঃ) প্রত্যাখ্যান করেন। কেননা একমাত্র আল্লাহ্ব্যতিত দুনিয়ার কোন পরাশক্তির ভয় নিয়া ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হইবে না। অতঃপর যখন হযরত তুফাইল ইবনে আমর আদ দাউসির গোত্র আদ দাউস পরিপূর্ণ বায়আত দেয়, তখনও ইহা প্রত্যাখ্যাত হয় কেননা গোত্রের সামরিক সামর্থ্য এবং অবস্থানগত দুর্বলতা ছিল। অবশেষে মদীনা হইতে পরিপূর্ণ আনুগত্যের শপথ পাওয়ার পর ওইখানে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়। 

  লক্ষণীয় যে ইয়াসরিব তথা মদিনা ছিল একটা বানিজ্য রুট যাহার গুরুত্ব মক্কা কিংবা বহির্বিশ্বের জন্য ছিল অপরিসীম। অপরদিকে মদিনার সামরিক শক্তির অধিকারী আউস এবং খাজরাজ পরিপূর্ণ আনুগত্যের শপথ করে যাহা আকাবার ২য় বায়’আত নামে স্বীকৃত। শক্তির দিক হইতেও মদিনা বেশ উল্লেখ করার মত ছিল। তাই রাসুলের(সাঃ) পদ্ধতি অনুসরণ করিয়া খিলাফাহ প্রতিষ্ঠা করিতে গেলে এই সমস্ত বিষয় বিবেচনায় নিতে হইবে।

  আজকেও আমরা দেখি আইন মানুষ তৈরী করিতেছে সংসদে। চেতনার উত্সরূপে প্রতিটি মোড়ে মূর্তির সমারোহ আর পুরো জাতির ঐক্যের প্রতিকরূপে বিশাল মিনার আর সৌধের হুবাল আর লাত মানাতের উপস্থিতি। আবার আবু জাহলের মত ওয়া লাত ওয়াল মানাতের জায়গায় হাজার বছরের বাঙালী ঐতিহ্য আর বিশেষ দিবসের স্মরণে স্থাপিত চেতনামূর্তির কসম দিয়া ইসলামকে দমন করিবার চেষ্টা। সব কেমন করিয়া মিলিয়া যাইতেছে। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হইতেছে। তাই আজ যাহারা পূঁজার মৃর্তি আর চেতনার মূর্তির পার্থক্য করিতেছেন তাহারা মুসলিমদের সুস্পষ্ট ধোঁকায় ফেলিতেছেন। আবার যেই সমস্ত ইসলামী দল জাতীয় পতাকা নিয়া আন্দোলন করিয়া  ইসলাম প্রতিষ্ঠার আশা করিতেছেন তাহারাও মূলত  বছরে একদিন মূর্তিচেতনার মত ঐসমস্ত সৌধ আর মিনারের স্বীকৃতি দিয়া যাইতেছেন যাহা সুস্পষ্ট কুফর।  

   তাই এই সময়ের ইসলাম প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি হিসাবে না কোন কুফর সিস্টেমের অংশ হওয়া যাইবে, না কোন পরাশক্তির তোষামোদি করিয়া ইসলামিক রাষ্ট্র আসিবে। এই প্রসঙ্গে ইমাম মালিক(রহিঃ) বলিয়াছিলেন, ‘’এই উম্মাহর শেষ অংশ ততক্ষন সফল হইবে না যতক্ষণ না ইহার প্রথম অংশকে অনুসরণ করিবে।‘’ কারণ এই উম্মাহর শেষ অংশ এমন এক অবস্থার মুখোমুখি হইয়াছে যাহা কেবল প্রথম অংশই দেখিয়াছিল। এই অবস্থা হইল রাষ্ট্র ব্যবস্থা হিসাবে ইসলাম না থাকা। উম্মাহর বাকি অংশ খিলাফাহর অধীনে ছিলেন তাই ব্যবস্থা পরিবর্তনের কাজ উনাদের করিতে হয় নাই। বড়জোর শাসকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করিতে হইয়াছিল, শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে নয়। যেমনঃ ইমাম আবু হানিফা(রহঃ) জেল খাটিয়াছিলেন খলিফা মনসুরের বিরুদ্ধে আন্দোলন করিয়া।

তাই এখনো যদি আপনাদের সঠিক ইসলাম বুঝিবার চেতনা না  জাগে তবে জানিয়া রাখুন এই সমস্ত জাতীয় চেতনার ইসলামী আন্দোলনে যদি ১০কোটি মানুষও হয়, তবু ইসলাম প্রতিষ্ঠা হইবে না বড়জোর আপনারা ক্ষমতায় আসিবেন।   মিসরে মুরসির সমর্থনে মিলিয়ন মানুষ রাস্তায় নামিলেও সিসির কিছুই হয় নাই। ইহা ছাড়া কুফর পদ্ধতিতে ক্ষমতা পাইয়াও ধরিয়া রাখিতে পারেন নাই। উল্টা সিনাইয়ে মুজাহিদ হত্যা,  ন্যুড বিচ চালু রাখা আর গাজার টানেল ধ্বংসের মত অপবাদ নিয়া ক্ষমতা হইতে নামিতে হইল। আলজেরিয়ার ইসলামিক স্যালভেশন ফ্রন্ট ইহার অপর একটা উদাহরণ যাহারা ৮২% ভোট পাইয়াও ক্ষমতা পায় নাই। মূলত রাষ্ট্র পরিবর্তনে যেই সমস্ত উপাদান সমুহে পরিবর্তন আনিতে হয় তাহা না আনিলে কেবল জনসমর্থন নিয়া শাসক পালটাইবে, ব্যবস্থা নয়। আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আমাদিগকে সঠিক পদ্ধতিতে খিলাফাহ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শরিক হইবার তৌফিক দিন।  





আজকেও আমরা দেখি আইন মানুষ তৈরী করিতেছে সংসদে। চেতনার উত্‍সরূপে প্রতিটি মোড়ে মূর্তির সমারোহ আর পুরো জাতির ঐক্যের প্রতিকরূপে বিশাল মিনার আর সৌধের হুবাল আর লাত মানাতের উপস্থিতি। আবার আবু জাহলের মত ওয়া লাত ওয়াল মানাতের জায়গায় হাজার বছরের বাঙালী ঐতিহ্য আর বিশেষ দিবসের স্মরণে স্থাপিত চেতনামূর্তির কসম দিয়া ইসলামকে দমন করিবার চেষ্টা। সব কেমন করিয়া মিলিয়া যাইতেছে। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হইতেছে। তাই আজ যাহারা পূঁজার মৃর্তি আর চেতনার মূর্তির পার্থক্য করিতেছেন তাহারা মুসলিমদের সুস্পষ্ট ধোঁকায় ফেলিতেছেন। আবার যেই সমস্ত ইসলামী দল জাতীয় পতাকা নিয়া আন্দোলন করিয়া ইসলাম প্রতিষ্ঠার আশা করিতেছেন তাহারাও মূলত বছরে একদিন মূর্তিচেতনার মত ঐসমস্ত সৌধ আর মিনারের স্বীকৃতি দিয়া যাইতেছেন যাহা সুস্পষ্ট কুফর।





ইসলাম আসিয়া তাহাদের যেমন আইন তৈরীর ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করে , তেমনি ঐক্যের প্রতিক এইসব মূর্তির অসারতা তুলিয়া ধরে। তখনি আবু জাহলরা খেপিয়া উঠে আর তাহাদের জাতীয় চেতনা জাগাইতে মক্কার কবিগণকে লাত, মানাত, উজ্জার মহিমা নিয়া উদ্দীপক কবিতার আসর বসাইত। ঠিক তেমনি করিয়া নও মুসলিমদের যখন পিটাইত তখন আবু জাহল, "ওয়া লাত ওয়াল উজ্জা" বলিয়া শপথ করিয়া পিটাইত। আর উমাইয়া ইবনে খালফ যখন একি শপথ করিয়া এই উম্মাহর লৌহপুরুষ হযরত বিলালকে(রাঃ) আঘাত করিতেছিল তখন ঐ ধৈর্য্যের পাহাড় চিত্‍কার করিয়া বলিতেছিলেন, "আহাদুন আহাদ"।



একি সময়ে রাসূল(সাঃ) কে প্রস্তাব দেওয়া হইতেছিল ঐ দারুন নদওয়াতে অংশগ্রহন করিতে। এমনকি ওইখানকার প্রধান হইয়া যাইতে। কিন্তু রাসূল(সাঃ) কোনরূপ কৌশলের নাম দিয়াও পরিপূর্ণ ইসলাম ব্যতিত ঐ সংসদে অংশগ্রহণ করেন নাই। আবার অনেক গোত্র বলিয়াছিল ঠিক আছে আমরা ইসলাম নিব তবে বছরে একদিন আমাদের মূর্তি হইতে চেতনা নিতে দাও। কিন্তু রাসূল(সাঃ) ইহাতেও রাজি হন নাই। ইহা ব্যতিত তায়েফের বনি আমর আল সাসা গোত্র প্রস্তাব দিল যে, ‘’আমরা ইসলাম মানিয়া নিব তবে তোমার( রাসুল (সাঃ) পরবর্তী আমরাই শাসক হইব।‘’ কিন্তু আল্লাহর রাসুল(সাঃ) কহিলেন, ‘’ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ হইতে আসে।‘’ অর্থাৎ শর্তহীন বায়’আত উনি চাহিয়াছিলেন। 
 
 
 
 

বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

সিসি ইজরাইলি বংশতভুত ইহুদি, মোসাদের এজেন্ট

অবশেষে উদঘাটিত হল গোপণ রহস্য|| মিশরের সেনাপ্রধান সিসি ইজরাইলি বংশতভুত ইহুদি ও মোসাদের এজেন্ট!!


মিশরের কুখ্যাত সিসি কে ?
কি তার আসল পরিচয় ?
মিসরের সেনাবাহিনী প্রধান আল-সিসি, একজন ইহুদি এবং মোসাদের এজেন্ট!!
========================================
ইসরাইলের বিশাল প্রজেক্ট—জায়োনিস্টদের দীর্ঘদিনের চক্রান্ত ‘নীলনদ থেকে ফোরাত বা ইউফ্রেটাস নদী পর্যন্ত জায়গা’ চুরি করা — সেটা অর্ধেক পালন হয়ে গিয়েছে!!
তারা কিছুদিন আগেই নীলনদের এলাকাটা চুরি করে নিয়েছে!

সমস্যা এইটা নয় যে মিশরের ক্রিমিনাল-ইন-চিপ, জেনারেল আবদ্‌ আল-ফাত্তাহ আল সিসি, একজন ইহুদি। [তার মা, মালিকা তিতানি, একজন মরোক্কোর আসেফি এলাকার ইহুদি, যার অর্থ আল-সিসি একজন ইহুদি এবং ইসরাইলের স্বয়ংক্রিয় একজন নাগরিক!]

নিচের লিংক পড়লেই জানতে পারবেন: http://www.crescent-online.net/2013/09/and-the-truth-shall-set-you-free-abu-dharr-4007-articles.html

যদি মিসরীয়রা সুষ্ঠ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে একজন ইহুদিকে প্রেসিডেস্ট নির্বাচিত করতে চায়— যে রকম তারা মুসলিম ব্রাদারহুডের ক্ষেত্রে করেছিল যেখানে মুসলিম ব্রাদারহুড আইনসভার নিম্নসভায় ৭৩% ভোট, উচ্চসভায় ৮০% ভোট, প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে ৫২% ভোট এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের সংবিধান অনুমোদনে ৬৪% ভোট পেয়েছিল¬ [মিসরীয় ভোটারদের]– সেক্ষেত্রে আমার কোন সমস্যা নেই।

সমস্যা হল আল-সিসি আর ইহুদি পরিচয় এবং ইসরাইল সাথে তার যোগাযোগ মিসরীয়দের কাছে থেকে গোপন করেছে.... এবং তাদের সদ্যজাত গণতন্ত্র প্রতারণা ও গণহত্যার মাধ্যমে ধ্বংস করে দিয়েছে।

আরো বড় সমস্যা হলো: আল-সিসি নিশ্চিতভাবেই মোসাদের এজেন্ট/গোয়েন্দা। তার অর্থ আল-সিসির মিসর শুধুমাত্র নির্দয়, banana republic- ধরণের স্বৈরতন্ত্রই [বানানা রিপাবলিক =যে দেশের অর্থনীতি শুধুমাত্র এক ধরণের প্রোডাক্ট (কলা) রপ্তানির উপরই নির্ভরশীল], বরং এটা এখন ইসরাইলের দখলকৃত অঞ্চল: চির-বর্ধনশীল গ্রেটার ইসরাইলের সবচেয়ে বড় ও নতুন প্রদেশ।

এটা শুনে বিস্মত হওয়ার কোন কারণ নেই যে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত আল-সিসি কে “সকল ইহুদিদের জাতীয় বীর” বলে আখ্যায়িত করেছেন।
নিচে এটার লিংক: http://www.middleeastmonitor.com/news/middle-east/6617-israeli-ambassador-calls-al-sisi-a-qnational-hero-for-all-jewsq

আল-সিসির মামা, ইউরি সিবাঘ ১৯৪৮ থেকে ১৯৫০ পর্যন্ত Jewish Defence League (Hamagein) এ চাকরি করে, তারপর সে ইসরাইলে বসবাসের জন্য অভিবাসন করে এবং সে বেন গুরিয়নের [ইসরাইলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী] রাজনৈতিক দলের গুরত্বপূর্ণ ব্যক্তিতে পরিণত হয়।
সে ১৯৬৮ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত বিরসেবা তে ইসরাইলের লেবার পার্টির সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে!!

ইউরির বোন — আল-সিসির মা — মোসাদের মিশনে মিশরে অভিবাসন করে। সেই মিশন পূর্ণতা পায় যখন মোসাদ প্রেসিডেন্ট মুরসিকে গদিচ্যুত করে এবং এর এজেন্ট আল-সিসিকে ৩রা জুলাই, ২০১৩ তে ক্যূ এর মাধ্যমে স্থলাভিসিক্ত করে!!

পরিণতি: আল-সিসি আজীবনই মোসাদের এজেন্ট। তার মিশন ছিল আরব মুসলিম দেশের ক্ষমতার চূড়ান্ত স্থানটা গোপনে হস্তগত করা। আল-সিসি, এলি কোয়েনের বর্তমান সংস্করণ। এলি কোয়েন [১৯৬১-১৯৬৫], একজন মোসাদের স্পাই, কামাল আমিন নাম নিয়ে সিরিয়ার ক্ষমতার চুড়ান্ত পর্যায়ে গিয়েছিল! সে সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা ছিল!

১৯৬৫ সালে তাকে কোর্ট মার্শাল করা হয় এবং দামাস্কাসে জনসম্মুখে ফাসি দেয়া হয়।
নিচে লিংক: http://www.youtube.com/watch?v=DkS2gMWh8-Y

জর্জ হার্বাট ওয়াকার বুশ বা সিনিয়র বুশ, তার বিখ্যাত উক্তি, “যদি জনগণ সত্য ঘটনা জানতো, তাহলে তারা আমাদের রাস্তায় তেড়ে নামিয়ে নিয়ে আসতো এবং বিচার ছাড়াই ফাসিতে ঝুলিয়ে দিত”— এই উক্তি আল-সিসির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

প্রচলিত মিডিয়া ও বিশ্বস্ত সূত্রানুসারে, এটা ব্যাপকভাবে প্রচারিত যে, আল-সিসি মিসরের সেনাবাহিনীতে তার দীর্ঘদিনের চাকরিতে সে ইসরাইলের সাথে যোগাযোগ রেখে চলেছে। ৩রা জুলাই ক্যূ-এর সময়, আল-সিসি ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিলিটারিদের সাথে স্থায়ীভাবে টেলিফোনে যোগাযোগ রেখেছিল [ইসরাইল তাদের পূর্ণ সমর্থন দেয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিল এবং আরও নিশ্চয়তা দিয়েছিল যে সেনাবাহিনীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বরাদ্দ বাদ দেয়া হবে না।

উল্লেখ্য মিসরের সেনাবাহিনীর কমপক্ষে ৫,০০০ অফিসার প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণ নিতে যায় এবং ইসরাইলের পর মিসরই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বৈদেশিক সহায়তা পায়!]।
নিচের লিংক ভিজিট করতে পারেন: http://www.globalresearch.ca/was-washington-behind-egypts-coup-detat/5341671

[ক্যু এর সময় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে টেলিযোগাযোগ]
http://www.ynetnews.com/articles/0,7340,L-4418953,00.html
[যুক্তরাষ্ট্রের বরাদ্দ বাতিল হবে না]

মিসরে যে ক্যু হয়েছে সেটা একটা প্রোপাগান্ডা ছিল এবং ইসরাইল সেটার পূর্ণ সমর্থন দিয়েছিল। ইসরাইলের সাথে যোগসূত্র স্থাপনকারী মিডিয়ার মাধ্যমে মিশরে ব্যপকভাবে অর্থায়নকৃত ক্যাম্পেইন চলে [মিসরের বড় বড় মিডিয়াগুলো ইসরাইলের তথা ইহুদিদের সাথে সম্পর্কিত]।
মিডিয়াগুলোই প্রসিডেন্ট মুরসিকে এডল্‌ফ হিটলারের সাথে তুলনা করছিল!
সত্যিকথা বলতে গেলে, ‘মুরসি=হিটলার’ বলে যারা প্রচরণা চালিয়ে যাচ্ছিল তারা মিশরীয় ছিলনা বরং তারা ছিল জায়োনিস্ট!

ক্যু-এর পর থেকে ইসরাইল মুক্তহস্তে আল-সিসির প্রতি প্রশংসা, টাকা-পয়সা এবং সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। মোসাদের এজেন্ট, গাজার সীমান্তের সুড়ঙ্গগুলো বন্ধ করে আল-সিসি ফিলিস্তিনের সাথে প্রায় যুদ্ধ ঘোষণা করে ফেলেছে যেহেতু এই মুক্ত সুড়ঙ্গগুলোই গাজাবাসীদের বাঁচিয়ে রাখছে। ইতোমধ্যে, আল-সিসি রথস্‌চাইল্ডের পুতুলদের [ডনমেহ বা গোপনে যার ইহুদি কিন্তু বাইরে মুসলিম দাবি করে, যেমন, মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক] কাছ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার নিয়েছে। ‌এই ডনমেহ হলো সৌদি সরকার [এরা যে ইহুদি তার অনেক প্রমাণ আছে]!!

সৌদিদের সাথে ইহুদির রক্ত সম্পর্ক জানতে নিচের লিংক ভিজিট করুন:http://www.strategic-culture.org/news/2011/10/26 /the-doenmeh-the-middle-easts- most-whispered-secret-part-ii.htm

—ড. কেভিন বারেট, ভেটেরান্স টুডের একজন কলামিস্ট
_ব্ল্যাক ফ্ল্যাগ_ 


সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

ক্রুসেড সম্পর্কে একটু ধারণা

ক্রুসেড সম্পর্কে একটু ধারণা !

ক্রুসেড শব্দটি দ্বারা মূলত ধর্মীয় যুদ্ধ বোঝানো হয়। তবে কোন রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উদ্দেশ্যের ব্যাপারে জনগণ শক্ত ধারণা পোষণ করলে তাকেও ক্রুসেড নাম দেয়া হয়ে থাকে। সাধারণ ভাবে বিশ্ব ইতিহাসে ক্রুসেড বলতে পবিত্র ভূমি অর্থাৎ জেরুজালেম এবং কন্সটান্টিনোপল এর অধিকার নেয়ার জন্য ইউরোপের খ্রিস্টানদের সম্মিলিত শক্তি মুসলমানদের বিরুদ্ধে ১০৯৫ - ১২৯১ সাল পর্যন্ত বেশ কয়েকবার যে যুদ্ধ অভিযান পরিচালনা করে সেগুলোকে বোঝায়। আসলে পূর্বাঞ্চলীয় অর্থডক্স বাইজেন্টাইন সম্রাট এই যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন আনাতোলিয়াতে মুসলমান সেলজুক সম্রাজ্যের বিস্তার রোধ করার জন্য।

প্রথমে ক্রুসেড বলতে মুসলমানদের কাছ থেকে জেরুসালেম শহর ফিরিয়ে নেওয়ার ইউরোপীয় প্রচেষ্টাকে বোঝানো হত। পরবর্তীতে অ-খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে ইউরোপীয়দের যেকোন সামরিক প্রচেষ্টাকে ক্রুসেড বলা শুরু হয়।

ক্রুসেডারেরা মধ্যপ্রাচ্যে সামন্তবাদী রাজ্য স্থাপনে সমর্থ হয়েছিল। তাই ক্রুসেডগুলিকে ইউরোপীয় সম্প্রসারণবাদ ও উপনিবেশবাদের একটি আদি রূপ হিসেবে কল্পনা করা যেতে পারে। এগুলিতেই প্রথমবারের মত ইউরোপীয় খ্রিস্টানেরা দেশ থেকে বহুদূরে সামরিক অভিযানে বের হয় এবং বহু সংখ্যায় তাদের সংস্কৃতি ও ধর্ম বিদেশে নিয়ে যাবার চেষ্টা চালায়।

ক্রুসেডগুলি ছিল যুদ্ধভিত্তিক খ্রিস্টধর্ম ও খ্রিস্টান ইউরোপের সম্প্রসারণের বহিঃপ্রকাশ। এগুলিতে ধর্মীয় চেতনার সাথে ধর্মনিরপেক্ষ সামরিক চিন্তাধারার মিলন ঘটেছিল। এগুলির ফলে খ্রিস্টানেরা অন্য সংস্কৃতিতে বাস করা শেখে এবং একই সাথে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির মাধ্যমে এগুলিকে প্রভাবিত করে। এগুলি আজও ইউরোপে মধ্যযুগের সবচেয়ে বিখ্যাত ঘটনা হিসেবে দেখা হয়।

ক্লেরমন্তে পোপ ২য় উর্বানের ভাষণে ক্রুসেডের বীজ বপিত হয়েছিল। সেলজুক তুর্কিদের বিরুদ্ধে বাইজেন্টীয় সম্রাট আলেক্সিস সাহায্য চেয়ে পাঠান এবং ফিলিস্তিনে খ্রিস্টান তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তার ব্যাপারে উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়। পোপ উর্বান তাঁর ভাষণে সম্রাট শার্লমাঞ কীভাবে স্যাক্সনদেরকে বলপ্রয়োগে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণে বাধ্য করেছিলেন এবং স্পেনের মুসলিম শাসকদের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন, তার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

শার্লমাঞ ছিলেন ফ্রাংক জাতির রাজা। ৮১৪ সালে তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর সাম্রাজ্যের পতন ঘটে এবং খ্রিস্টান ইউরোপ আক্রমণের সম্মুখীন হয়। এশিয়া থেকে মজর নামের যাযাবর জাতিরা এসে পূর্ব ও মধ্য ইউরোপে লুটতরাজ আরম্ভ করে এবং ১০ম শতক পর্যন্ত তা অব্যাহত রাখে। ৮০০ সাল থেকে উত্তর ইউরোপে ভাইকিংয়েরা দস্যুগিরি শুরু করে। তারা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলেও হানা দেয়। কিন্তু ইউরোপীয় খ্রিস্টানদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায় ইসলামের প্রসার। ইসলামের সামরিক শক্তি ৮ম শতকের মধ্যেই ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীর, উত্তর আফ্রিকা এবং স্পেনের অধিকাংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনে। তারা ইতালিতে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে, গ্রিকদের চিরায়ত সংস্কৃতির ধারক বাইজেন্টীয় সাম্রাজ্যের ক্ষমতা খর্ব করে এবং সাম্রাজ্যের রাজধানী কন্সতান্তিনোপল অবরোধ করে। ভাইকিং বা মজর জাতির তুলনায় ইসলামের হুমকি ছিল দ্বিমুখী; এটি ছিল সংস্কৃতি ও ধর্ম উভয়ের যুদ্ধ।

কিন্তু ১১শ শতকে শক্তির ভারসাম্য পশ্চিমের দিকে হেলতে শুরু করে। খ্রিস্টানদের গির্জা কেন্দ্রীভূত হয়। রাজারা সরকারব্যবস্থায় বিশপদের নিয়োগ দেয়া শুরু করেন। বহু বছরের মধ্যে প্রথমবারের মত পোপেরা ইউরোপের জনমতকে নিজেদের পেছনে একতাবদ্ধ করতে সক্ষম হন। ফলে ক্রুসেড আরম্ভ করা সহজ হয়ে ওঠে।

অধিকন্তু, এসময় ইউরোপের জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এখানকার নগরজীবনে এসেছিল নতুন জোয়ার। স্থানীয় ও দূরবর্তী বাণিজ্য রমরমা ভাব ধারণ করছিল। ইউরোপের মনুষ্য ও অর্থনৈতিক সম্পদ ক্রুসেডের ব্যয়ভার বহনের উপযোগী হয়ে ওঠে। পূর্বে ইউরোপীয় বণিকেরা ভূমধ্যসাগর অঞ্চলের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকত। এবার তারা দ্রব্য, পরিবহন ও লাভের উপর অধিকতর নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের ব্যাপারে উচ্চাভিলাষী হয়ে ওঠে। এই পার্থিব অভিলাষ ও পবিত্র ভূমি সম্পর্কে ধর্মীয় অনুভূতির মিশেল, এবং পোপের নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষমতা --- এ সবই ক্রুসেডের জন্য পশ্চিম ইউরোপীয় খ্রিস্টানদের প্রস্তুত করে তোলে।
 
by
Safil Uddin Bhuiyan

শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

ইসলামিক দাওয়ার দুটি কিঞ্চিৎ পরীক্ষা

বর্তমান সময়ে ইসলামিক দাওয়ার দুটি শ্রেণী লক্ষ্য করলাম এবং কিঞ্চিৎ পরীক্ষাও করলাম।

১। জনপ্রিয় দাওয়া - এই প্রকারের দাওয়ার নাম শুনলে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করে। কারণ এই জাহেল সময়ে দাওয়া জনপ্রিয় হওয়া ভয়াবহ ব্যাপার। তবুও হকপন্থি অনেক আলিম, শায়খ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন এবং তা দ্বীনের জন্য মঙ্গলজনকও বটে। কিন্তু হকের দাওয়া করে এটাকে জনপ্রিয় করে তোলা আর জনগণের মনমত দাওয়া করা দুইটার মাঝে সমূহ পার্থক্য বিদ্যমান।

র্তমান সময়ে মানুষ যখন প্রবৃত্তির দাসত্ব মেনে নিয়েছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের ''টিকে থাকার প্রবণতার'' ( survival instinct) সাথে যে উপদেশ বাণী বিরুদ্ধাচরণ করে না, তা তারা খুব ভালভাবে গ্রহণ করে। তাই পারিবারিক আইন আর রাজনীতি ব্যতিত মু'য়ামালাত সংক্রান্ত ইসলামিক নীতি অনেকেই গ্রহণ করে এবং এই বিষয়ের দাওয়া যারা করেন উনাদের খুব বেশি প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয় না। যেমন- বলা যায় যে তাবলীগের ভাইদের নাকি ইসরায়েলেও বাধা দেয় না। না, আমি সমালোচনা করছি না। এটাকে হকের বাইরেও বলছি না। কিন্তু কিছু বিষয়কে পাশ কাটিয়ে দাওয়া করা ঠিক পরিপূর্ণ ইসলামকে উপস্থাপন করে না।

এই ক্ষেত্রে আরও মজার ব্যাপার হল পারিবারিক আইনগুলোতে পর্যন্ত যেটুকু যার কাজে লাগে ওইটুকু নেয়ার মানসিকতা একটি ভয়াবহ ব্যাধি। কয়েকদিন আগে বিবাহ পরবর্তী আলাদা বাসায় থাকা নিয়ে একটি পরীক্ষামূলক পোস্ট দিয়েছিলাম। কথাগুলো আমার জানামতে হক বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু যে পর্দা রক্ষার জন্য আলাদা থাকা সে পর্দা রক্ষা না করে প্রোফাইল পিক এ বেপর্দা ছবি দেওয়া বোনও ঐটা শেয়ার করেছেন। আরেকজন দেখি প্রেমিককে ট্যাগ করে শেয়ার দিয়েছেন। কি এক অবস্থা!!!!!!!! ( হয়ত এই পোস্টের পর বোনেরা আমার স্ট্যাটাস এ লাইক, শেয়ার বন্ধ করে দিবেন, তবু সত্য বলতেই হবে)

যাইহোক যারা এই ধরণের দাওয়া করতে পছন্দ করেন, উনারা হয়ত সাময়িক জনপ্রিয়তা পাবেন। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হল আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়ার আর কিছুই রইল না।

২। অজনপ্রিয় দাওয়া - এইসব দাওয়াকারীগণ দুনিয়ার কোন ধরণের আকর্ষণে নয়, বরং এই বিশ্বজাহানের প্রতিপালকের সন্তুষ্টির জন্য দাওয়া করে থাকেন। কে কি মনে করল, কি ট্যাগ দিল, কোন দলের প্রতিনিধি বানাল, কতটুকু গ্রহণ করল এইসব উনাদের চিন্তার অনেক দূরে। এই সমস্ত মহামানবেরা গুটিকয়েক মানুষের হয়ত পরিচিত, হয়ত কেউ উনাদের চেহারাও ঠিকমত চিনে না। কিন্তু একসময় এই হকের দাওয়ার আওয়াজ বুলন্দ হয়। হয়ত তখন তিনি দুনিয়াতেই নাই। এই প্রসঙ্গে রাসুল(সাঃ) এর সাহাবা(রাঃ) গণের কিংবা তাবীঈগণের উদাহরণ দিতে পারি। তবে আমি এই শতকের দুইজন মহামানবের উদাহরণ দিব।

ইমাম আনোয়ার আল আউলাকি(রহিঃ), যিনি আমেরিকার মত জায়গায় জন্মেছিলেন আর অনেক বড় বড় ডিগ্রীও নিয়েছিলেন। ইচ্ছা করলে হোয়াইট হাউসের আস্থাভাজন হয়ে পৃথিবীব্যাপী চরম জনপ্রিয় লোক হিসাবে নিজের জীবন কাটিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু এই আল্লাহর প্রিয় বান্দা নিজের জীবনকে জিহাদের ময়দানে কাটিয়ে অবশেষে সেই মার্কিন ড্রোনের আঘাতে শাহাদাত বরণ করলেন। রেখে গেলেন কোটি তরুনের জীবনের গতিপথ পাল্টে দেয়া কিছু লেকচার। আল্লাহ্‌ উনাকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন।

আল্লাহ্‌র রাসুলের(সাঃ) সাহাবী হজরত তামিম আত দারির(রাঃ) উত্তরপুরুষ, বিখ্যাত মুজতাহিদ শায়খ ইয়ুসুফ আন নাবাহানির নাতি, যার মা বাবা দুইজনই ছিলেন মুজতাহিদ সেই শায়খ তাকি উদ্দিন আন নাবাহানি(রহিঃ)। জর্ডান শরিয়া আদালতের বিচারক ছিলেন। কিন্তু শরিয়ার প্রয়োগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর চাকরি ছেড়ে দিলেন আর খিলাফাহ পুনঃ প্রতিষ্ঠার কাজে আত্মনিয়োগ করলেন। জর্ডান সীমান্তে ইসরায়েল বিরোধী জিহাদেও ছিলেন। অবশেষে দ্বীনের পরিশুদ্ধ রূপ খুঁজতে গিয়ে নিজের পরিচিতি, প্রতিপত্তি কোন কিছুর দিকে খেয়াল রাখেন নাই। নিদাম উল ইসলাম, আত তাকাতুল আল হিজবি, আত দউলা আল ইসলামিয়াহ, আত তাফকির এর মত কালজয়ী কিছু বই লিখে গেলেন। খিলাফাহ পুনঃ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করতে গিয়ে হিজব উত তাহরির এর প্রতিষ্ঠা করলেন।

দাওয়ার কাজে বহুবার নির্যাতিত হলেন। অবশেষে জর্ডান সীমান্তে সীমান্ত রক্ষীদের হাতে ধরা পড়লেন। কিন্তু তখনও রক্ষীরা চিনতে পারেনি এই লোক কে? কারণ তিনি জর্ডান সরকারের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিলেন। যখন জিজ্ঞাসা করল, আপনি কে? উত্তরে বললেন, আমি একজন বৃদ্ধ মানুষ যে চিকিৎসার খোঁজে বের হয়েছে। উনার কথার অর্থ হল উনি অসুস্থ উম্মাহর চিকিৎসার খোঁজে বের হয়েছেন। তারা অনেক নির্যাতন করে ছেড়ে দিল। এবং ঐ আহত অবস্থায় উনার মৃত্যু হয়। অল্প কিছু মানুষ উনার জানাজা পড়েন। অবশেষে সত্যিকারের ''গুরাবা'' বা অপরিচিতের মত এই দুনিয়া ছেড়ে যান। আল্লাহ্‌ উনাকে কবুল করুন, জান্নাতুল ফিরদাউসের বাসিন্দা করুন এবং উনার খিলাফাহ প্রতিষ্ঠার দাওয়াকে পূর্ণতা দান করুন, এই মুসলিম উম্মাহকে খিলাফাহর ছায়ায় নিয়ে আসুন। আমিন





দাওয়াহ এবং জিহাদ দুইটাই ইসলামি রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ।।
 
মুজাহিদ বলতে কেবল প্রত্যক্ষভাবে জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহরত মুসলিমদের বুঝানো হয় ।। কোন ব্যক্তি যতক্ষণ অবধি প্রত্যক্ষ জিহাদে অংশগ্রহন করবে করবে না ততখন অবধি তাকে মুজাহিদ বলাটা বোকামি এবং ভুল ।। তবে একজন মুসলিমকে অবশ্যই মুজাহিদ এবং শহীদ হবার কমপক্ষে আন্তরিক ইচ্ছাটুকু রাখতে হবে ।। নুন্যতমভাবে আন্তরিক ইচ্ছাটুকু যদি না থাকে তবে সে মুসলিম নয় , মুনাফিক ।। সহিহ দুই খানা হাদিস দ্বারা যেসব ব্যক্তি কমপক্ষে হলেও জিহাদে অংশগ্রহন করার এবং শহীদ হবার আন্তরিক ইচ্ছাটুকু না রাখে তাদেরকে মুনাফিক হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে ।।
তবে জিহাদ অংশগ্রহন করার আগে অবশ্যই সংঘটিত হওয়া জরুরী ।। কারন জিহাদ একতাবদ্ধ অর্থাৎ জমায়েতবদ্ধভাবে করতে হয় ।। ইসলামি রাষ্ট্র অর্থাৎ খিলাফাহ না থাকলে তখন জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহের প্রাথমিক লক্ষ্য হবে খিলাফাহকে ফিরিয়ে আনা কারন খিলাফাহ অর্থাৎ ই্সলামি রাষ্ট্র ছাড়া তাওহিদ প্রতিষ্ঠা অসম্ভব এবং জিহাদের মূল লক্ষই হল আল্লাহর জমিনে তাওহিদ প্রতিষ্ঠা করা ।। আল - কুরআনে সালাতের (নামাজের ) হুকুম থেকেও বেশি এসেছে জিহাদের হুকুম ।। তাই শরিয়ার দৃষ্টিকোণ হতে সালাত এবং জিহাদের বিরোধিতা করা একই ধরনের জঘন্য অপরাধ ।।

বুধবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৩

একটিগুরুত্বপূর্ণ বিধান প্রসঙ্গে আর তা হল নুসরাহ বা বস্তুগত সমর্থন

ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ক্ষমতাধর ব্যক্তির কাছে নুসরাহ চাওয়াঃ শরিয়ার দলিল-প্রমান


এবার আসা যাক একটিগুরুত্বপূর্ণ বিধান প্রসঙ্গে আর তা হল নুসরাহ বা বস্তুগত সমর্থন। এটা নিয়ে সাবধানতার সাথে বিশ্লেষণ করে দেখা যাকআমাদের কী অনুসরণ করা উচিত, বিশেষ করে আমরাযখন দেখতে পাই যে, ইসলামি রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার জন্য যারা কাজ করেন তারা নুসরাহর বিষয়টি অত্যন্ত কম গুরুত্ব দিয়েবিবেচনা করেন। তারা মনে করে এটি একটিঅগুরুত্বপূর্ণ বিষয় (peripheralmatter)বা এর ইসনাদ (বর্ণণারসূত্র) ততটা শক্তিশালী নয় বিধায় এটি গ্রহণ করবার প্রয়োজন নেই। তারা কেবল এখানেই থেমে থাকে না। বরং রাসূলুল্লাহ (সা) এর সবগুলো সীরাতে সামান্যকিছু ব্যত্যয় ছাড়া সুস্পষ্ট বর্ণণা থাকা সত্ত্বেও এ বিধান ও যারা এর অনুসরণ করেতাদের কটাক্ষ করা হয়। যদিও সীরাতেরএসব লেখকগণের কারোরই বর্তমানে অস্তিত্বশীল দলগুলোর সাথে বিন্দুমাত্র সম্পর্ক ছিলনা।

পবিত্র কুরআন তাদের সর্ম্পকে বলেছে,


'সাহায্য সহায়তা দিয়েছে' (সূরা আনফাল:৭২)

এবং তাদের আখ্যায়িত করেছে

'আনসার (সাহায্যকারী)' (সূরা তাওবাহ: ১০০)

এ বর্ণণা ছিল অত্যন্ত প্রশংসার ও উন্নত আঙ্কিকের যারমাধ্যমে তাদের বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়। রাসূলুল্লাহ (সা) এর সীরাত বিশ্লেষণ করলে দেখতে পাব যে, তিনি ক্ষমতাধর নেতৃস্থানীয়লোকদের কাছে নুসরাহ অনুসন্ধান করেছিলেন। একটির পর একটি গোত্রের কাছ থেকে তিক্ত অভিজ্ঞতা পাওয়াসত্তেও তিনি এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বারংবার নুসরাহ অনুসন্ধান করছিলেন এবং এব্যাপারে দমে যাননি। ইবনে সা'দ তাঁর তাবাকাতগ্রন্থে উল্লেখ করেন যে, যতগুলো গোত্রের কাছে তিনি (সা) গিয়েছিলেন তার সংখ্যা পনেরএর কম নয়। রাসূলুল্লাহ (সা) এরএই অধ্যাবসায় থেকে আমরা যা পাই তা হল, নুসরাহ অনুসন্ধান করা ছিল আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার পক্ষ থেকে নবী(সা) এর প্রতি একটি সুস্পষ্ট নির্দেশনা।

পবিত্র কুরআন এ সাহায্যকারীদের 'আনসার' বলে আখ্যা দিয়েছে, যা এর আরেকটি দলীল। কুরআনে একাধিকজায়গায় তাদের প্রশংসা করা হয়েছে ও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাদের ক্ষমাঘোষণা করেছেন। 'মুহাজেরীন' (অভিবাসী) দের পরেইতাদের অবস্থান।



নুসরাহ (সমর্থন বা সহায়তা) অনুসন্ধান করারবাধ্যবাদকতাঃ


ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রসুলাল্লাহ (সাঃ) এর পদ্ধতিঅনুযায়ী শাসককে জবাবদিহিতা করা এবংইসলামের পক্ষে জনমত তৈরি করার পাশাপাশি সমাজের নেত্রিত্বস্থানীয় বা প্রভাবশালী ব্যাক্তিবর্গের (যাদেরকে আমরা আহলাল নুসরাহ বলবো) সমর্থন পাওয়াটা জরুরী।

আমরা প্রত্যক্ষ করছি যে, আরবের(মধ্য-প্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা) গণজাগরণগুলোতে মুসলিমগণ কুফর-শাসনের পরিবর্তন চাচ্ছে, কিন্তু সেনাবাহিনীতে (বিশেষত কিছু গুরুত্বপূর্ণ জেনারেল বা কমান্ডারদের কাছে) তাদের সমর্থন না থাকায়গণজাগরণগুলো বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছে বা অসমাপ্ত রয়ে যাচ্ছে কারণ সমাজের আসল ক্ষমতার কাছে তাদের বার্তাপৌছায়নি।

ইবন কাসির বর্ণনা করেন, আলী ইবন আবি তালিব (রাঃ) বলেনঃ “নবুওয়তের৯ম/১০ম বছরে যখন আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তা’লা) তাঁর রসুল (সাঃ) কে নির্দেশ করলেন যেন তিনি(সাঃ) আরব গোত্রগুলোর কাছে নিজেকে উপস্থাপন করতে, তিনি (সাঃ) আমাকে এবং আবু বকর (রাঃ) কে নিয়ে মিনাতে গমন করলেন যেখানে অনেক গোত্রেরসাথে সাক্ষাৎ করি”। [বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩য়খন্ড]

ইবন ইসহাক বর্ণনা করেন, আজ-জুহরি (রাঃ) বলেন, “রসুলুল্লাহ(সাঃ) বনু আমির বিন সা’সা’হ এর নিকট গিয়েআল্লাহ্‌র পথে ডাকেন এবং প্রস্তাব দেন যে,  “আমাকে সমর্থন দেও আর আমাকে নিরাপত্তা দেও”।

তাদের মধ্যে বায়হারা বিন ফিরাস নামের একব্যাক্তি বলল, “আল্লাহ্‌র শপথ, কোরাইশেরএ যুবককে সমর্থন দিলে তাঁর সাথে সমগ্র আরব জয় করতে পারব”।

তারপর ব্যাক্তিটি রসুলুল্লাহ (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনি কি মনে করেন আমরা যদি আপনাকে সমর্থন করি এবং আল্লাহ আপনাকে বিজয় দান করেনতাহলে আল্লাহ আপনার পর আমাদেরকে কর্তৃত্বদিবেন”?

রসুলুল্লাহ (সাঃ) উত্তর দিলেন, “কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহরই, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে দেন”।

বায়হারা বলল, “আরবের উপকন্ঠে আপনার নিরাপত্তার জন্য আমাদের কে উপস্থিত করবেন, আর আপনার বিজয়ের পর কর্তৃত্ব অন্যের কাছে চলেযাবে?আপনার দ্বিনের আমাদের দরকার নাই”।

বনু আমিরের এক পন্ডিতের (যে এবারের হজ্জ ও স্বাভাবিকভাবেই রসুলাল্লাহ (সাঃ) এর সাথেসাক্ষাৎ করতে পারে নি) কাছে যখন এ খবরটি পৌছায় তখন তিনি বায়হারাকে বললেন, “আমাদের কি কোন পথ খোলা নাই এ সুযোগ আবার পাওয়ার? যারহাতে আমার সত্ত্বা তাঁর কসম খেয়ে বলছি, ইসমাইলএর কোন বংশধর একে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করতে পারবে না। এটা আসলেই সত্য। তাঁর(সাঃ) এর কথা বিবেচনা করতে তোমারবিচার-বুদ্ধির কি হয়েছিল? [ইবন হিসাম এবং ইমাম আত তাবারিতেওবর্ণিত। ইবন কাসিরের “বিদায়া ওয়ান নিহায়া”র ৬ষ্ঠ খন্ডেও বর্ণিত]

রসুলুল্লাহ (সাঃ) বনু শেবান বিন সালাবা এর সাথেও যোগাযোগ করেছিলেন, যারা বলেছিল আরবের (যেকোন গোত্রের) বিরুদ্ধে রসুলাল্লাহ (সাঃ) কে সাহায্যকরবেন,তবে পারস্যের বিরুদ্ধে নয়। কিন্তু রসুলুল্লাহ (সাঃ) এ ধরনের শর্তসাপেক্ষসাহায্য গ্রহণ করেননি, কারণ তিনি চেয়েছিলেন শর্তহীন সাহায্য (সমগ্র বিশ্বেরবিরুদ্ধে),যা ইঙ্গিত করে যে তিনি (সাঃ) চাচ্ছিলেন যে রাষ্ট্রের মাধ্যমে ইসলামি দ্বীনএকবার প্রতিষ্ঠিত হলে তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে। আব্দুল্লাহ ইবন কা’ব ইবন মালিক হতে জানা যায়, রসুলুল্লাহ (সাঃ) বনু কাল্ব এর নিকট নিরাপত্তা চেয়েছিলেন কিন্তু তারাশর্তে রাজি হয় নি। [বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩য়খন্ড]

ইবন আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, আলিইবন আবি তালিব (রাঃ) বলেছেন, “যখন আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তা’লা)আরবের বিভিন্ন গোত্রের কাছে দাওয়াহ নিয়ে যেতে বললেন, রসুলুল্লাহ (সাঃ) আবু বকর (রাঃ) কে নিয়ে মিনা গমন করেন। বিভিন্ন গোত্রের সাথে সাক্ষাৎ করে একসময় বনু সাইবান সালিবাহ’র নিকট পৌছালেন। কথা প্রসঙ্গে আবু বকর (রাঃ) তাদেরজিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা সংখ্যায় কত?”, তারা উত্তর দিলেন, “১ হাজার, আর ১ হাজার কোন কম নয়”। তিনি (রাঃ)আবার জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমাদের প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থা কেমন?”, তারা উত্তরে বললেন, “আমরাসবসময় যুদ্ধ করি (এবং নিজেদের প্রতিরক্ষা করি) কারণ প্রত্যেক জাতিই যুদ্ধরত অবস্থায় থাকতে বাধ্য”। আবু বকর (রাঃ) আবার জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমাদের যুদ্ধের ফলাফল কিরকম হয়?”, তারা বলল, “আমরাযখন যুদ্ধ করি আমরা উন্মত্ত থাকি, যুদ্ধকে রক্তাক্ত করে তুলি। আমরা সন্তানদের থেকে ঘোড়াগুলোকে বেশিযত্ন করি,দুগ্ধপোষ্য পশু থেকে অস্ত্রকে বেশীপছন্দ করি। বিজয়ের কথা যদি বলি, বিজয় আল্লাহ্‌র হাতে, কখনও আমরা বিজয়ী হই, কখনও বিপক্ষরা”...”। [এখানেকিছুটা সংক্ষেপে বর্ণনা করা হয়েছে, দীর্ঘ আলোচনা ইমাম বায়হাকির “দালাইল আল নুবুওয়া”; আবু নুয়াইম হতে বর্ণিত ইমাম হাকিমের সাহিহ তে পাওয়া যায়]

উপরের বর্ণনা থেকে পাওয়া যায় যুদ্ধের ময়দানে শক্তি সামর্থঅনুধাবন করে বিভিন্ন গোত্রের কাছে রসুলুল্লাহ (সাঃ) ইসলামের দাওয়া নিয়ে যান এবং মুসলিমদের প্রতিরক্ষাদেওয়ার মাধ্যমে ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠারপ্রতিশ্রুতি চেয়েছেন।

তাহলে বর্তমানে মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় সমর্থন বা সহায়তাসেনাবাহিনীতেই (যাদেরকে আমরা “আহলাল নুসরাহ” বলতেপারি) রয়েছে। খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য এবং অবৈধশাসকদের উৎখাতের জন্য শরিয়াহগত পদ্ধতি হিসেবেমুসলিম উম্মাহর মধ্যে জনমত

রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন,

'হে অমুক ও অমুক গোত্র। আমি তোমাদের কাছে প্রেরিত আল্লাহর রাসূল (সা)। তিনি সুবহানাহু ওয়াতা’আলা তোমাদের নির্দেশদিচ্ছেন ইবাদত করবার ও তার সাথে কাউকে শরীক না করবার.....আমার উপর বিশ্বাস স্থাপনকরবে ও আস্থা রাখবে এবং ততক্ষণ পর্যন্ত আমাকে সমর্থন প্রদান করবে যতক্ষণ না আমিআল্লাহ প্রদত্ত হুকুমসমূহ লোকদের কাছে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরছি।' (সীরাত ইবনে হিশাম)

যখন রাসূলুল্লাহ (সা) এর চাচা আবু তালিব ও বিবি খাদিজা (রা)একই বছরে ইন্তেকাল করলেন তখন তাদের মৃত্যুর কারণে তার ভাগ্যাকাশে দূর্যোগের মেঘআরও ঘনীভূত হল। চাচার মৃত্যুর পরকুরাইশগণ রাসূলুল্লাহ (সা) এর উপর নির্যাতনের খড়গহস্ত আরও কঠিনভাবে চালাতে উদ্যতহল। এ ব্যাপারে তিনি (সা)বলতেন,

'আবু তালিবের মৃত্যুর পর কুরাইশগন যত ঘৃণিত কাজ করেছিল ততটাআর কখনওই করেনি।' (সীরাতে ইবনে হিশাম)

আবু তালিবের মৃত্যুর পর নিজের ও তাঁর লোকদের সুরক্ষা ওনুসরার জন্য রাসূলুল্লাহ (সা) তায়েফ গিয়েছিলেন। এ বিষয়ে তিনি বানু সাকিফ গোত্রের কিছু নেতৃস্থানীয় লোকেরসাথে দেখা করেছিলেন। তিনি তাদের সাথেইসলামকে সমর্থন করা ও এর পাশে দাঁড়ানোর জন্য কথা বলেন, তার গোত্রের যে কেউতার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবার জন্য বললেন। তারা এ আহ্বানপ্রত্যাখান করেছিল এবং বারণ করা সত্ত্বেও তাদের সাথে যোগাযোগের বিষয়টি গোপন নারেখে প্রকাশ করে দিয়েছিল। বিশেষ প্রহরা ছাড়া মুহম্মদ (সা) মক্কায় প্রবেশ করতেপারেননি।

রাসূলুল্লাহ (সা) বিভিন্ন গোত্রের দরজায় দাঁড়িয়ে আহ্বানজানিয়ে বলতেন,

'হে অমুক গোত্র! আমি তোমাদের কাছে প্রেরিত আল্লাহর রাসূলতিনি নির্দেশ দিচ্ছেনযে, তোমরা আল্লাহর উপাসনা করবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবেনাএইসব মূর্তি থেকে যেকোন কিছু গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকো এবং আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর ও ঈমান আনততক্ষণ পর্যন্ত আমাকেরক্ষা কর যতক্ষণ না আল্লাহ আমাকে যা দিয়ে পাঠিয়েছেন তা লোক সামনে তুলে ধরছি' (সীরাত ইবনে হিশাম)

রাসূলুল্লাহ (সা) এর চাচা আবু লাহাব ছায়ার মত তাঁর পেছনেলেগে থাকত এবং তিনি যা বলতেন তার জবাব দিত ও প্রত্যাখান করত। কেউ তার কথা গ্রহণ করত না, তারা সাধারণত বলত, 'তোমার লোকেরা যারাতোমাকে আরও ভাল জানে তারাই তোমাকে অনুসরণ করে না।'

তারা কথা বলত ও তর্ক করত। অন্যদিকে তিনি তাদের সাথে কথা বলতেন এবং আল্লাহর দিকেআহ্বান জানাতেন এই কথা বলে,

"হে আল্লাহ (আমার প্রভু), যদি তোমার ইচ্ছাথাকত! (তারা) এরকম হতো না। "

সীরাত ইবনে হিশামে উল্লেখ আছে, আয-জুহরী বর্ণণা করেনযে,মিনাতে রাসূলুল্লাহ(সা) বানু কিন্দা গোত্রের কাছে তাদের আবাসস্থলে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি নিজেকে উপস্থাপন করেছেন ও প্রত্যাখাত হলেন। তিনি আরও বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা)বানু কা'বগোত্রের কাছে যান এবং প্রস্তাব দেন। কিন্তু আগের মতই প্রত্যাখাত হন। তারপর তিনি বানু হানিফা গোত্রের কাছে গিয়ে একইভাবেপ্রস্তাব দেন এবং তাদের প্রত্যাখান ছিল আরবদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট। তিনি বানু আমির বিনবানু সা'সা' এর কাছে গিয়েছিলেনএবং তাদের আল্লাহর দিকে আহ্বান করেন ও নিজেকে উপস্থাপন করেন। বহাইরা বিন ফিরাস নামে তাদের মধ্যকার একজন বলল,

'আল্লাহর কসম, আমি যদি কুরাইশের এই তরুণকে নিতে পারতাম তাহলে পুরো আরবদেরপরাজিত করতে পারতাম।' সে রাসূলুল্লাহ (সা)কে প্রশ্ন করল, 'তুমিকি মনে কর, যদিআমরা তোমাকে অনুসরণ করি এবং স্রষ্টা তোমার শত্রুদের বিরুদ্ধে তোমাকে বিজয় দান করেতবে তোমার পরে আমাদের হাতে ক্ষমতা আসবে?' নবী (সা) উত্তর দিলেন,

'ক্ষমতার মালিক আল্লাহ এবং তিনি যাকে খুশী তাকে তা দান করেন'

বহাইরা উত্তর দিল, 'আমরা তোমাকে রক্ষা করবার জন্য আরবদের কাছে আমাদের গলাউন্মুক্ত করে দেব আর যখন তুমি বিজয়ী হবে তখন ক্ষমতা চলে যাবে অন্য কারও হাতে!তাহলে তোমার ক্ষমতার আমাদের প্রয়োজন নেই!'

রাসূলুল্লাহ (সা) এরকমই করে যেতে থাকলেন। যখন হজ্জের মৌসুমেলোকেরা জমায়েত হত, তিনি(সা) সেখানে উপস্থিত হতেন এবং তাদের আল্লাহর দিকে আহ্বান জানাতেন। তিনি (সা) নিজেকেউপস্থাপণ করতেন এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনা ও রহমততুলে ধরতেন। যখনই রাসূলুল্লাহ(সা) জানতে পারতেন যে কোন স্বনামধন্য ও সম্মানিত আরব এসেছেন তখনই তিনি কালবিলম্বনা করে তাকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার দিকে আহ্বান জানাতেন ও তাঁর প্রতি নাজিলকৃত বাণীসমূহউপস্থাপন করতেন।

ইতিবাচক সাড়া না দিলেও রাসূলুল্লাহ (সা) যে সব গোত্রেরসাথে দেখা করেছিলেন, ইসলামেরদাওয়াত দিয়েছিলেন এবং নিজেকে তাদের সামনে উপস্থাপন করেছিলেন তারা হল:

১) বানু আ'মির বিন সা'সা'
২) মুহারিব বিন খাসফাহ
৩) ফাজারাহ
৪) ঘাসান
৫) মুররাহ
৬) হানিফাহ
৭) সুলায়েম
৮) আবাস
৯) বানু নাদর
১০) বানু আল বুকা
১১) কিন্দা
১২) কা'ব
১৩) আল হারিস বিন কা'ব
১৪) উজরাহ
১৫) আল হাদারিমাহ

ইবনে সাদ এর 'আত তাবাকাত' শীর্ষক বই অনুসারে এই তালিকা উল্লেখ করা হল।


এছাড়াও রাসূলুল্লাহ (সা) ও যাদের কাছে নুসরাহ অনুসন্ধানকরা হয়েছিল তাদের মধ্যে যে আলোচনা হয়েছিল অথবা দ্বিতীয় আকাবার শপথে তার (সা) ওবাই'য়াত প্রদানকারীদেরমধ্যকার যে সংলাপ হয়েছিল-তা থেকে বুঝা যায় নবী (সা) একটি লক্ষ্যে এ কাজে (নুসরাহঅনুসন্ধান) অগ্রসর হয়েছিলেন ও এ কাজের উপর দৃঢ় ছিলেন; অর্থাৎ দ্বীনপ্রতিষ্ঠা ও এমন এক (শক্তিশালী) সত্ত্বা প্রতিষ্ঠার জন্য যা দ্বীনকে বাস্তবায়ন, সুরক্ষা প্রদান ওবিস্তারের কাজ করবে। সুতরাং কীভাবে আমরাএটিকে অবজ্ঞা করি যখন এর মাধ্যমে দাওয়াত একটি পর্যায় থেকে আরেকটি পর্যায়ে উন্নীতহয় ও একটি ভূমিতে একটি ব্যবস্থাকে বাস্তবায়ন ও প্রসারের সুযোগ সৃষ্টি করে। তাহলে এ অবজ্ঞা কারস্বার্থে?

- কুফফারগণ বুঝতে পেরেছিল যে, এ কাজের পেছনে রয়েছে একটি অঙ্গীকার ও দ্বীনবিজয়ের বীজ। একারণে আমরা দেখতেপাই বানু আমীর গোত্র বুঝতে পেরেছিল এ বিষয়টি ক্ষমতার সাথে বিজড়িত। মক্কার কুফফারগণেরকাছে যখন দ্বিতীয় আকাবার খবর পৌঁছায় তখন তারা তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছিল। তারা বলেছিল, 'হে খাজরাজের লোকেরা! আমাদেরকাছে খবর আছে যে, তোমরাআমাদের সাথীর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেছ এবং তাকে আমাদের থেকে নিয়ে গিয়ে আমাদের বিরুদ্ধেযুদ্ধ করবার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ করেছ।' আমরা দেখতে পাই শয়তান সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে চিৎকার করেবলেছিল,'হে আখাসীবের (কুরাইশ)লোকেরা,তোমরা কি মুহম্মদ ওতার সাহাবাগন (মুশরিকদের দৃষ্টিতে দ্বীনত্যাগী) কে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্যএকত্র হওয়া পছন্দ কর?'

দ্বিতীয় আকাবার শপথের সময় আল বারা বলেন, 'হে রাসূলুল্লাহ, সুতরাং আমরা বাই'আত প্রদান করলাম। আল্লাহর কসম, আমরা বংশ পরষ্পরায়নেতা থেকে নেতাতে যোদ্ধা ও অস্ত্র চালনায় পারদর্শী ও সুসজ্জিত।' আবুল হায়সামি ইবনুলতাইহান বলেন, 'হেআল্লাহর রাসূল, আমাদেরঅন্যদের লোকদেও (ইহুদী) সাথেও সর্ম্পক রয়েছে। যদি আমরা তাদের প্রতি কঠোর হই এবং সম্ভবত সে সময় আল্লাহযদি আপনাকে বিজয়ী করেন তাহলে কি আপনি আমাদের প্রত্যাখান করে নিজের লোকদের কাছেফিরে আসবেন?' আসাদবিন জুরারাহ বলেন, 'আজতাকে নেওয়া মানে সকল আরবের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করা, তোমাদের মধ্যকার সম্ভ্রান্তগন কতল হওয়া এবংতলওয়ারেরে তিক্ত স্বাদ নেওয়া।

এ বিষয়ে আল আব্বাস বিন উবাদা রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলেন, 'সেই সত্তার কসম যিনিআপনাকে একজন সত্য নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন, যদি আপনার ইচ্ছা তাই হয় তাহলে আগামীকালই আমরা মীনাবাসীরবিরুদ্ধে অস্র ধারণ করতে প্রস্তত।'

আল হায়সামীর প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে রাসূলুল্লাহ (সা) উত্তরদিলেন,

'না, রক্ত তো রক্তই; আর রক্তের বদলা রক্তইআমি তোমাদের জন্য আরতোমরাও আমার জন্য তোমরা যাদের সাথে যুদ্ধ করবে আমিও তাদের সাথে যুদ্ধ করব আরতোমরা যাদের সাথে সন্ধি চাইবে আমার সন্ধিও তাদের সাথেই'

আয়েশা (রা) বলেন যে, তাকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সাহায্য, ক্ষমতাশালী লোক, সমরাস্ত্র ও সমর্থনদিয়ে সন্তুষ্ট করেছিলেন

ইবনে হিশাম রাসূলুল্লাহ (সা) এর নুসরাহ অনুসন্ধান নিয়েমন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, 'আল্লাহ যখন তার নবী (সা) কে শক্তিশালী ওদ্বীনকে বুলন্দ করতে চাইলেন তখন আনসারদের মধ্য হতে এই লোকগুলোকে দিয়ে সহায়তাকরলেন'

এসব মন্তব্য থেকে এই হুকুমের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশনাপাওয়া যায় এবং একজন ইসলামের দিকে আহ্বান করার পরিপ্রেক্ষিতে ইতিবাচকপ্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলে সে দ্বীনকে সমর্থন করল-এরূপ ব্যাখ্যা বা নির্দেশনারভ্রান্তি থেকে মুক্ত রাখে। বাই'আত, ইজহার উদ দীন (দ্বীনের বিজয় কবুল করা); নাসর (সমর্থন), যুদ্ধ; বিশিষ্টজনেরা হত্যারসম্মুখীন হবে; তলোয়ারেরআঘাতে তারা ঘায়েল হবে; এটাসব আরবের বিরুদ্ধে যাবে; তাদের এমনভাবে সুরক্ষা দেয়া উচিত যেভাবে নারী ও শিশুদেরদেয়া হয়- এসব অভিব্যক্তি থেকে বুঝা যায় কীভাবে রাসূলুল্লাহ (সা) নুসরাহঅনুসন্ধান করেছিলেন। তিনি তা করেছিলেনসুরক্ষার খাতিরে এবং এমনকি প্রয়োজনে দ্বীন বহনের জন্য শক্তি প্রয়োগের নিমিত্তে ওএমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবার জন্য যা দ্বীন ও এর অনুসারীদের রক্ষা করবে। সাথে সাথে এরহুকুমসমূহ বাস্তবায়ন ও বিশ্বের কাছে দাওয়াত পৌঁছে দেবার কাজ করবে।

এ বাস্তবতায় একজন বুঝতে পারবে যে, রাসূলুল্লাহ (সা) নিম্নলিখিতকাজগুলো করেছিলেন:

- তিনি ব্যক্তির নিরাপত্তা ও দাওয়াতের সুরক্ষার জন্য সমর্থনঅনুসন্ধান চেয়েছিলেন। এটা মুশরিকদের কাছ থেকে চাওয়া যায় যেমনিভাবে তার চাচাতাকে সুরক্ষা প্রদান করেছিলেন অর্থাৎ তার উপর আপতিত যে কোন ক্ষতির হাত থেকে রক্ষাকরেছিলেন। এটা মুত’ঈম বিন আদি'র ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কেননা তিনি (সা) তায়েফথেকে আদি'রসহায়তায় মক্কায় প্রত্যাবর্তন করেন। সুরক্ষার বিষয়টিকে মুসলিমদের দ্বীনের সাথে আপোষ করবার জন্যব্যবহার করা যাবে না। দাওয়াতের গতি কিছুটা শ্লথ করতে অনুরোধ করায় রাসূলুল্লাহ (সা)তার চাচাকে বলেছিলেন,

'আল্লাহর কসম, হে আমার চাচা! যদি তারা দাওয়াতকে পরিত্যাগ করবার জন্য আমারডান হাতে সূর্য আর বাম হাতে চন্দ্র এনে দেয়, তারপরেও আমি দ্বীনকে পরিত্যাগ করব না যতক্ষণনা আল্লাহ এ দ্বীনকে বিজয়ী করে বা এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমি নিহত হই' (সীরাত ইবনে হিশাম)

- রাসূলুল্লাহ (সা) সাধারণত নেতাদের সাথে যোগাযোগ করতেন এইকামনায় যে, তারা ঈমানআনলে তাদের অনুসরণকারী সাধারণ লোকেরাও ঈমান আনবে। দাওয়াত প্রসারণকে সহজতর করা ও গ্রহযোগ্য করবার জন্য তিনিএটা করেছিলেন। এটা দাওয়াতেরজনপ্রিয়তার ভিত্তি (কাই'দাহ শা’বিয়্যাহ, popular base) তৈরিতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছিল।

- রাসূলুল্লাহ (সা) ক্ষমতাধর লোকদের কাছে নুসরাহ অনুসন্ধানকরেছিলেন এই শর্তে যে, তারাইসলাম গ্রহণ করবে - যে রকমটি ঘটেছিল আল আকাবার দ্বিতীয় শপথের ক্ষেত্রে।

নুসরাহ অনুসন্ধান করা হয়েছিল ক্ষমতাধর লোকদের কাছ থেকে। রাসূলুল্লাহ (সা) এরসময় এমনসব ক্ষমতাবান লোকদের কাছে নুসরাহ সন্ধান করা হয়েছিল যাদের রয়েছে নেতৃত্বও জনপ্রিয়তা। সেসময় নেতারাই শাসকছিল;তারা আবারসেনাবাহিনীর প্রধানও ছিল এবং তাদের মতামতের উপর জনগন আস্থাশীল ছিল।

আজকের দিনে শাসকেরা বলপ্রয়োগে ক্ষমতায় আসীন হয় এবং তারাঅজনপ্রিয়। আবার অনেকসময় জনপ্রিয়তাযা দেখা যায় তা প্রকৃত চিত্র নয়। এক্ষেত্রে আমাদের তাই করতে হবে যা রাসূলুল্লাহ (সা) করেছিলেন। সুতরাং আমরা সমাজেপ্রভাবশালী এমনসব লোকদের সাথে যোগাযোগ করব যাদের মাধ্যমে তাদের অনুগামী অন্যলোকদের কাছে পৌঁছানো সহজতর হয়-যাতে করে জনপ্রিয়তার ভিত্তিমূল অর্জিত হয়। আর রাষ্ট্র ক্ষমতায়আসীন হবার লক্ষ্যে ক্ষমতাশালী লোকদের কাছে নুসরাহ অনুসন্ধান করব, যেমন: সামরিক বাহিনীরঅফিসার। তাছাড়া যখন দলেরসদস্যদের উপর অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যায় তখন তাদের বন্ধু ও আত্নীয়স্বজনদের কাছথেকে সাহায্য প্রার্থনা করা দোষণীয় নয় এই শর্তে যে এর ফলে দাওয়াকারীর ঈমানকোনরূপ চাপ বা আপোষের সম্মুখীন হবে না। এভাবে বর্তমান বাস্তবতাকে বিবেচনায় এনে রাসূলুল্লাহ (সা) কেঅনুসরণ করতে হবে।

তিনি (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) বলেন,
আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা)  বলেন

'মুমিনদের সাহায্য করা আমার দায়িত্ব' (সূরা রূম:৪৭)

তিনি (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) আরও বলেন,

'আল্লাহ্ নিশ্চয়ই তাদেরকে সাহায্য করবেন, যারা আল্লাহকে সাহায্য করেনিশ্চয়ই আল্লাহ্ পরাক্রমশালী, শক্তিধর' (সূরা হজ্জ্ব:৪০)

তিনি (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) আরও বলেন,

'তোমাদের মধ্যে যারাবিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ্ তাদেরকেওয়াদা দিয়েছেন যে, তাদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে শাসনকর্তৃত্ব দানকরবেনযেমন তিনি শাসনকর্তৃত্ব দান করেছেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকেএবং তিনি অবশ্যই সুদৃঢ় করবেন তাদের ধর্মকে, যা তিনি তাদের জন্যপছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়-ভীতির পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে নিরাপত্তা দান করবেনতারা আমার ইবাদত করবেএবং আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না' (সূরা নূর:৫৫)

 by তারিক বিন যিয়াদ (Notes) on Tuesday, 16 April 2013 at 22:42

Opinions:
@ নুসরাহ -এর ইস্যুকে কেউ রিজেক্ট করে না সুন্নাহ হিসেবে, কিন্তু নুসরাহ-কে ফারদ বলা গোমরাহী। কারণ, 'নুসরাহ seeking fard'--এর ব্যাপারে কুরআন সুন্নাতে কোন দলীল প্রমান নেই। তারপরও আমাদের মুজাহিদীন ভাই এরা পাকিস্তান, সোমালিয়া, আফগানিস্তান, ইরাকের বিভিন্ন গোত্র থেকে নুসরাহ নিয়ে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠিত করে জিহাদ করছেন (আল্লাহ তাদের কবুল করুন, তাদের দিয়ে আল্লাহ সমস্ত সুন্নাহ পালন করিয়েছেন, সুবহানআল্লাহ!) তারা নুসরাতের দোহাই দিয়ে বসে নেই, তারা সোমালিয়া নাইজেরিয়া, ইরাকের ছোট অঞ্চলে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে জিহাদ ফীসাবিলিল্লাহ করার মাধ্যমে এখন শাহাদাহ বরণ করে এখন জান্নাতে আছেন।

আপনারা ভুল করছেন খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা এক জিনিস আর জিহাদ করা আর একটা জিনিস। সাধারন মানুষ এর সাথে যুদ্ধ করা বা বোম মেরে খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা ইসলামে সম্পুর্ন নিষেধ এবং যেখানে kuffar রা মুসলিম ভাইদের কে হত্যা করতেছে সেখানে জিহাদ করতে হবে। আর আপনারা যে স্থানে ইসলাম এসেছে বলে দাবী করছেন, সেখানকার খলিফা কে? ইসলাম কি শুধু একটি নির্দিষ্ট সীনারেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

রাসূল (সা) আর তাঁর সাহাবা রা তলোয়ার দিয়ে একেকটা ভূখন্ড ইসলামী রাষ্ট্রের ছায়াতলে এনেছেন। এখন মুজাহিদীনরা ঠিক তা-ই করছেন। সুন্নাহ অনুসারে তারাও ইসলামী রাষ্ট্রের অধীনে সমস্ত মুসলিম ভূখন্ডকে একত্র করার চেষ্টা করছেন। আর মদীনাতে রাসুলুল্লাহ (সা) নুসরাহ নিয়ে ছোট একটা ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শুরু করেছিলেন, সেই রাষ্ট্রের আমীর তিনি (সা) ছিলেন। এখন সোমালিয়া নাইজেরিয়া ইরাকের যেসব ছোট অঞ্চলে নুসরাহ নিয়েই ইসলাম কায়েম হয়েছে, সেইসব রাষ্ট্রে একজন করে আমীর আছেন। আর পৃথিবী-ব্যাপী প্রথম খিলাফাহ যেভাবে তলোয়ারের মাধ্যমে জিহাদ ক্বিতালের মাধ্যমে কায়েম হয়েছে, ঠিক সেভাবেই দ্বিতীয় খিলাফাহ জিহাদের মাধ্যমেই পৃথিবী-ব্যাপী কায়েম হবে, ইনশাআল্লাহ।

মুজাহিদীনরা কখনোই সাধারণ মানুষ হত্যা করেন না, তারা সাধারণ মানুষকে বাঁচানোর জন্য নিজের জান-মাল দিয়ে বছরের পর বছর জিহাদ করছেন। কুফর মিডিয়ার মিথ্যা প্রচারণায় কাফিরদের কথায় কান দিয়ে নিজের ভাইদের ভুল বুঝবেন না দয়া করে।

রাসূল(সা) কি জিহাদের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নাকি দা'ওয়াহ ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে ইসলামী রাস্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং রাস্ট্র প্রতিষ্ঠা পরবর্তীতে জিহাদ করেছিলেন?

রাস্ট্র অনুপস্থিত থাকাকালীন রাসূল(সা) জিহাদের অনুমতি দান করেছিলেন?


এখন রাষ্ট্র অনুপস্থিত আছে কে বলল? সোমালিয়া, ইরাক, নাইজেরিয়ার অংশবিশেষে কাফির-মুশরিক দের প্রভাবমুক্ত শারীয়াহ কায়েম হয়েছে। ওইসব অঞ্চলে একজন করে আমির আছেন, তাকে সবাই বাইয়াহ দিয়েছে। পৃথিবী-ব্যাপী খিলাফাহ প্রতিষ্ঠা তো জিহাদের মাধ্যমেই করে গেছেন রাসুলুল্লাহ (সা) আর তাঁর সাহাবারা।

"নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলগণকে সুস্পষ্ট নিদর্শন সহ প্রেরণ করেছি এবং তাদের অবতীর্ণ করেছি কিতাব ও ন্যায়নীতি, যাতে মানুষ ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি নাযিল করেছি লৌহ, যাতে আছে প্রচন্ড রণশক্তি এবং মানুষের বহুবিধ উপকার। এটা এজন্য যে আল্লাহ জেনে নিবেন, কে না দেখে তাকে ও তাঁর রাসূলগণকে সাহায্য করে। আল্লাহ শক্তিধর, পরাক্রমশালী।" [সূরা হাদীদ ৫৭ঃ২৫]

প্রতিটি হুকুমের নির্দিষ্ট শরয়ী ইল্লাহ(reason) থাকে, যা নির্দিষ্ট মানাতে(reality) নাযিল হয়। হুকুমসমূহের ইল্লাহ বাদ দিয়ে এর প্রয়োগ স্পষ্টতঃ নির্বুদ্ধিতা। সালাহ-সাওম, জিহাদ এক বিষয় নয়।

কাফিরদের দুর্ব্যবহারের জবাবে অস্ত্রের মাধ্যমে তাদের মোকাবেলা করার অনুমতি প্রার্থনা করলে আবদুর রহমান বিন আল-আওফ (রা) কে রাসূল (সা) বলেন:

أِنِّي أُمِرْتُ بِالْعَفْو، فَلا تُقَاتِلُوا الْقَوْم

"প্রকৃতপক্ষে আমি ক্ষমার জন্য আদিষ্ট অতএব তোমরা লোকজনের সাথে যুদ্ধ করোনা।" [ইবনে আবি হাতিম, আন-নাসাঈ এবং আল-হাকিম থেকে বর্ণিত]

রাস্ট্র প্রতিষ্ঠা পরবর্তীতে মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের সময় আল্লাহর তরফ থেকে ওহী হয়;

أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ

"যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হল তাদেরকে যাদের সাথে কাফিররা যুদ্ধ করে; কারণ তাদের প্রতি অত্যাচার করা হয়েছে। আল্লাহ তাদেরকে (মুমিনদেরকে) সাহায্য করতে অবশ্যই সক্ষম।" [২২:৩৯]

এর সাথে সালাহের কোন সংযুক্ততা নেই। প্রতিটি হুকুমই স্বতন্ত্র।

উপরোক্ত দলীলগুলো থেকে এটা প্রমাণিত হয় যে প্রথমে যুদ্ধের অনুমতি ছিলনা, কিন্তু পরবর্তীতে তা দেওয়া হয়; যেহেতু এই অনুমতি আল্লাহর তরফ থেকে দেওয়া হয়েছে, সেহেতু এটি একটি শরঈ হুকুম যার আনুগত্য করা আবশ্যক। স্বেচ্ছায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে রাসূল (সা) সশস্ত্র পন্থা অবলম্বন করা থেকে বিরত ছিলেন-বিষয়টি এরকম কিছু ছিলনা বরং বিষয়টি ছিল ওহীর মাধ্যমে নির্ধারিত যার আনুগত্য করা ছিল অবশ্য কর্তব্য। রাসূল (সা) যেভাবে একাজ করা থেকে বিরত ছিলেন ঠিক তেমনিভাবে তাঁর অনুসরণে নিজেদেরকে বিরত রাখাটা আমাদের জন্যও বাধ্যতামূলক।

সাওম পরিপূর্ণভাবে পালন বা রিবা বন্ধের জন্য বা যাকাতের সুষম বন্টনের জন্যও রাস্ট্র প্রয়োজন; যা আমরা রাসূল(সা) এর সীরাতেই দেখি। যদি রাস্ট্রের প্রয়োজন না হত তবে ব্যক্তিগতভাবেই এসব হুকুম বাস্তবায়ন করতেন।

জিহাদ ইসলামী রাস্ট্রের পররাস্ট্রনীতির একটি অংশ। রাস্ট্র যেখানে অনুপস্থিত সেখানে পররাস্ট্রনীতির প্রয়োগ হবে কিভাবে?


শরীয়াহ কি শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট হুকুম নাকি সম্পূর্ণ দ্বীনের বাস্তবায়ন?

আমি অবশ্যই তাদের এই কাজের বিরোধীতা করছিনা। কিন্তু, মূল বিষয় হল, ইমারাতে ইসলাম বাস্তবায়ন মানেই হল সম্পূর্ন দ্বীনের বাস্তবায়ন।

আলহামদুলিল্লাহ, মুজাহিদীন ভাইয়েরা শরীয়া বাস্তবায়নে তাদের ইখলাসের প্রমাণ দিচ্ছে। আল্লাহ তাদের ও আমদের কবুল করুন।

কিন্তু আমার প্রশ্ন হল, দ্বীন বাস্তবায়নের ধারা কি ভঙ্গুর প্রকৃতির? কোন বিশ্বাসে বিভক্ত থেকে ইসলামী হুদুদ-কিসাস বাস্তবায়ন করা হচ্ছে?
পাকিস্তানের সোয়াতে দখল নিয়েছিল তখন কেন তালেবান দাওলাতুল খিলাফাহ ঘোষণা দিতে অসম্মতি প্রদান করেছিল?
একইভাবে আফগানিস্তান কেন এই কাজটি করা হয়েছিল?

বিভক্তিতা তো জাতীয়তাবাদের বৈশিষ্ট্য, ইসলামের মাঝে আসলো কিভাবে?

আর ইসলামী রাস্ট্রের উপস্থিতির কথা বললেন। ইরাক, সোমালিয়া, নাইজেরিয়াঃ ৩টি রাস্ট্র উদাহরণস্বরূপও দেখালেন। ইসলামী রাস্ট্রের খলীফা কয়জন হবে?? ৩টি দাওলাহ, ৩ জন আমীর!!!!!!

রাসূল(সা) বলেছেনঃ
"যদি দুই জন খলীফাকে বাই'আত দেয়া হয় তাহলে পরের জনকে হত্যা কর।"

আমি একবারো বলিনি তিনটি দারুল ইসলামে তিনজন খলীফা। তারা প্রত্যেকে একজন করে গভর্নর। সমগ্র উম্মাহর বাইয়াহ নিয়ে পৃথিবী-ব্যাপী একটা খিলাফাহ রাষ্ট্রে একজন খলীফা নির্বাচিত হবেন। আর কুরাইশ বংশ ছাড়া খলিফা নির্বাচিত হলে সমগ্র উম্মাহ মেনে নিবে না। হাদিসে আছে, খলীফা হতে হবে মক্কা-মদীনায় কুরাইশ বংশের।
 আর মুজাহিদীন ভাইয়েরা সবগুলা রাষ্ট্র একত্র করার জন্যই এত সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। তিনটি আলাদা রাষ্ট্রে বিভক্ত থাকুক, সেটা তারা কখনোই চান না। এইজন্যই তারা রাত দিন আপ্রান চেষ্টা করে ইসলামী রাষ্ট্র গুলো এক করার চেষ্টায় রত আছেন।
আমি কোথায় কিতাল হারাম বলেছি দেখাবেন?
আমার বক্তব্য হল ইসলামী রাস্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রাসূল(সা) ক্বিতাল করেননি বিধায়, এটি আমাদের জন্যও সহীহ না।

পূর্বেই বলেছি, প্রতিটি হুকুমের শরয়ী ইল্লাহ এবং নিজদ্ব মানাত আছে, যেগুলো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আমি বলছি না ইসলামী রাস্ট্র ধ্বংসের সাথে সাথে কুর'আনের হুকুমসমূহ রহিত হয়ে গেছে।

সালাহ-সাওমের সাথে জিহাদের মানাতের সম্পর্ক নেই। কারণ এই হুকুমগুলো ব্যক্তিগতভাবেও সম্পূর্ন করা যায়, যেখানে জিহাদের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। জিহাদ কোন ব্যক্তিগত ইবাদাহের পর্যায়ে পড়ে না, এটি উম্মাহ'র রাস্ট্রীয় দায়িত্ব এবং collective work.

কুফফার আর কুফফারের দালাল সমান?
কুফফারের দালালতো unintentionally কাজ করতে পারে, সেও কাফির? নাকি যালিমের পর্যায়ে পড়ে?(৪৫)
আর যারা চুপ করে বসে আছে তারাও কি কাফির? তারাও তো চুপ থেকে অন্যায়কে সমর্থন দিচ্ছে!! নাকি তারা ফাসিক?(৪৭)

একটা ফাতওয়া নির্দিষ্ট কারণে সময়ের ভিত্তিতে দেওয়া হয়, যখন তখন ব্যবহারের জন্য নয়।
ফাতওয়ার প্রেক্ষিতে এই উম্মাহ'র অধিকাংশই বর্তমানে এই law follow করে, সবাই কাফির????

আর তারা যে বিষয়টা অন্তর থেকে follow করছে, এটা বুঝবেন কিভাবে?

সূরা মায়িদার যে আয়াতটি দিয়েছেন, ইবনে আব্বাসের তাফসীরটি পড়বেন 

শেষ দুটি কথা বলব।

পৃথিবীতে দু'টি বিষয় আছেঃ
১. আল ক্বিয়াদাতুল ফিকরিয়াহ
২. আল ক্বিয়াদাতুল শাকসিয়াহ


প্রথমটা আঁকড়ে ধরতে চেষ্টা করবেন, অবশ্যই দ্বিতীয়টিও ফেলে দেওয়ার বিষয় নয়। তবে, ভিত্তি হিসেবে কখনোই দ্বিতীয়টি নিবেন না।

আল্লাহু হাকীমুন। 

অবাক করার মত বিষয় হচ্ছে কেউ কেউ সবকিছুতেই জিহাদ খোজে। প্রত্যেকটা বিষয়েই ইসলামে স্পষ্টভাবে বলে দেয়া আছে। সবকিছুরই সুনির্দিষ্ট নিয়ম আছে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে। চুন থেকে পান খসলেই জিহাদ!!!! কোন কথা নাই!!

এই রকম ব্যক্তি মূলত জিহাদ আবেগ হিসেবে নেয় কন্সেপ্টচুয়ালি না। এই আবেগ আসে এই ভাবে "রাসুল (সা) এত গুলো জিহাদ করছে আপনি অস্বিকার করতেছেন কিভাবে!!"" (যেখানে সে জানেই না আমি অস্বিকার করতেছি না কি করতেছি) "আপনি জানেন এত গুলো আয়াত আছে কোরানে!!!!" ইত্যাদি ইত্যাদি... এই বাক্য গুলো কন্সেপ্টচুয়াল না। এটা আবেগি বাক্য। "জিহাদ করতে হবে জিহাদ করতে হবে" এই বলে সবসময় একটা প্রানবন্ত অবস্থায় রাখা হয়। আবেগ হিসেবে নিলে খুব একটা কার্যকর হবে না। এটাকে কনসেপ্ট হিসেবে নিতে হবে তাহলে কিছু একটা করা যাবে। আবেগ হিসেবে নিলে অনলাইন পরযন্তই। আর ফিল্ডে যারা কাজ করে না তারা অনলাইনকেই মনে করে সবকিছু। তার চিন্তাটা আস্তে আস্তে অনলাইনে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়।

কখন কোথায় কিভাবে জিহাদ করতে হবে তা সুনির্দিষ্ট ভাবে বলা হয়েছে। হাদিছ এবং কোরানের ব্যাখ্যা গুলোতে। যদি সেটা বলা না হত তাহলে 24 hours রাসুল(সা) জিহাদের মধ্যেই থাকতেন। কেউ নামাজ না পরলে জিহাদ করা শুরু করতেন।

যারা আসলে জিহাদের বিশ্বসি তারা জিহাদের নিয়মও ঠিকমত জানে না। কোথা থেকে শুরু করতে হবে কার দ্বারা কিভাবে জিহাদ শুরু হবে কার বিরুদ্ধে করা হবে অবজেকটিভ কি থাকবে। জিজ্ঞেস করলে কিছুই বলতে পারে না।

তো যারা বলেন এটা ফরজ এটা এখনই করতে হবে। ঠিক আছে এটা করতে চান ভাল। নামাজ না পরলে দোররা মারা শুরু করেন। নাকি ওটা নফল?? বিচার কার্যালয় বানান বানিয়ে বিচার করা শুরু করেন। সবই করেন। শুধুমাত্র জিহাদ করবেন কেন?? সবই করেন সবই তো অব্লিগেশান।

 মানাত মানবেন না, মানহাজ মানবেন না, ফিকাহ মানবেন না, ম্যাথড মানবেন না, উসুল মানবেন না, ইজতিহাদ মানবেন না, কিছুই মানবেন না শুধু জিহাদ আর জিহাদ। আর কিছু নাই এই একটাই আছে ইসলামে। আসলে মূলত আপনার মাথায় এই একটাই আছে। এত গুলো বিষয় এভোয়েড করে তো আপনি যেতে পারেন না।