বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

সিসি ইজরাইলি বংশতভুত ইহুদি, মোসাদের এজেন্ট

অবশেষে উদঘাটিত হল গোপণ রহস্য|| মিশরের সেনাপ্রধান সিসি ইজরাইলি বংশতভুত ইহুদি ও মোসাদের এজেন্ট!!


মিশরের কুখ্যাত সিসি কে ?
কি তার আসল পরিচয় ?
মিসরের সেনাবাহিনী প্রধান আল-সিসি, একজন ইহুদি এবং মোসাদের এজেন্ট!!
========================================
ইসরাইলের বিশাল প্রজেক্ট—জায়োনিস্টদের দীর্ঘদিনের চক্রান্ত ‘নীলনদ থেকে ফোরাত বা ইউফ্রেটাস নদী পর্যন্ত জায়গা’ চুরি করা — সেটা অর্ধেক পালন হয়ে গিয়েছে!!
তারা কিছুদিন আগেই নীলনদের এলাকাটা চুরি করে নিয়েছে!

সমস্যা এইটা নয় যে মিশরের ক্রিমিনাল-ইন-চিপ, জেনারেল আবদ্‌ আল-ফাত্তাহ আল সিসি, একজন ইহুদি। [তার মা, মালিকা তিতানি, একজন মরোক্কোর আসেফি এলাকার ইহুদি, যার অর্থ আল-সিসি একজন ইহুদি এবং ইসরাইলের স্বয়ংক্রিয় একজন নাগরিক!]

নিচের লিংক পড়লেই জানতে পারবেন: http://www.crescent-online.net/2013/09/and-the-truth-shall-set-you-free-abu-dharr-4007-articles.html

যদি মিসরীয়রা সুষ্ঠ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে একজন ইহুদিকে প্রেসিডেস্ট নির্বাচিত করতে চায়— যে রকম তারা মুসলিম ব্রাদারহুডের ক্ষেত্রে করেছিল যেখানে মুসলিম ব্রাদারহুড আইনসভার নিম্নসভায় ৭৩% ভোট, উচ্চসভায় ৮০% ভোট, প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে ৫২% ভোট এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের সংবিধান অনুমোদনে ৬৪% ভোট পেয়েছিল¬ [মিসরীয় ভোটারদের]– সেক্ষেত্রে আমার কোন সমস্যা নেই।

সমস্যা হল আল-সিসি আর ইহুদি পরিচয় এবং ইসরাইল সাথে তার যোগাযোগ মিসরীয়দের কাছে থেকে গোপন করেছে.... এবং তাদের সদ্যজাত গণতন্ত্র প্রতারণা ও গণহত্যার মাধ্যমে ধ্বংস করে দিয়েছে।

আরো বড় সমস্যা হলো: আল-সিসি নিশ্চিতভাবেই মোসাদের এজেন্ট/গোয়েন্দা। তার অর্থ আল-সিসির মিসর শুধুমাত্র নির্দয়, banana republic- ধরণের স্বৈরতন্ত্রই [বানানা রিপাবলিক =যে দেশের অর্থনীতি শুধুমাত্র এক ধরণের প্রোডাক্ট (কলা) রপ্তানির উপরই নির্ভরশীল], বরং এটা এখন ইসরাইলের দখলকৃত অঞ্চল: চির-বর্ধনশীল গ্রেটার ইসরাইলের সবচেয়ে বড় ও নতুন প্রদেশ।

এটা শুনে বিস্মত হওয়ার কোন কারণ নেই যে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত আল-সিসি কে “সকল ইহুদিদের জাতীয় বীর” বলে আখ্যায়িত করেছেন।
নিচে এটার লিংক: http://www.middleeastmonitor.com/news/middle-east/6617-israeli-ambassador-calls-al-sisi-a-qnational-hero-for-all-jewsq

আল-সিসির মামা, ইউরি সিবাঘ ১৯৪৮ থেকে ১৯৫০ পর্যন্ত Jewish Defence League (Hamagein) এ চাকরি করে, তারপর সে ইসরাইলে বসবাসের জন্য অভিবাসন করে এবং সে বেন গুরিয়নের [ইসরাইলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী] রাজনৈতিক দলের গুরত্বপূর্ণ ব্যক্তিতে পরিণত হয়।
সে ১৯৬৮ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত বিরসেবা তে ইসরাইলের লেবার পার্টির সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে!!

ইউরির বোন — আল-সিসির মা — মোসাদের মিশনে মিশরে অভিবাসন করে। সেই মিশন পূর্ণতা পায় যখন মোসাদ প্রেসিডেন্ট মুরসিকে গদিচ্যুত করে এবং এর এজেন্ট আল-সিসিকে ৩রা জুলাই, ২০১৩ তে ক্যূ এর মাধ্যমে স্থলাভিসিক্ত করে!!

পরিণতি: আল-সিসি আজীবনই মোসাদের এজেন্ট। তার মিশন ছিল আরব মুসলিম দেশের ক্ষমতার চূড়ান্ত স্থানটা গোপনে হস্তগত করা। আল-সিসি, এলি কোয়েনের বর্তমান সংস্করণ। এলি কোয়েন [১৯৬১-১৯৬৫], একজন মোসাদের স্পাই, কামাল আমিন নাম নিয়ে সিরিয়ার ক্ষমতার চুড়ান্ত পর্যায়ে গিয়েছিল! সে সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা ছিল!

১৯৬৫ সালে তাকে কোর্ট মার্শাল করা হয় এবং দামাস্কাসে জনসম্মুখে ফাসি দেয়া হয়।
নিচে লিংক: http://www.youtube.com/watch?v=DkS2gMWh8-Y

জর্জ হার্বাট ওয়াকার বুশ বা সিনিয়র বুশ, তার বিখ্যাত উক্তি, “যদি জনগণ সত্য ঘটনা জানতো, তাহলে তারা আমাদের রাস্তায় তেড়ে নামিয়ে নিয়ে আসতো এবং বিচার ছাড়াই ফাসিতে ঝুলিয়ে দিত”— এই উক্তি আল-সিসির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

প্রচলিত মিডিয়া ও বিশ্বস্ত সূত্রানুসারে, এটা ব্যাপকভাবে প্রচারিত যে, আল-সিসি মিসরের সেনাবাহিনীতে তার দীর্ঘদিনের চাকরিতে সে ইসরাইলের সাথে যোগাযোগ রেখে চলেছে। ৩রা জুলাই ক্যূ-এর সময়, আল-সিসি ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিলিটারিদের সাথে স্থায়ীভাবে টেলিফোনে যোগাযোগ রেখেছিল [ইসরাইল তাদের পূর্ণ সমর্থন দেয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিল এবং আরও নিশ্চয়তা দিয়েছিল যে সেনাবাহিনীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বরাদ্দ বাদ দেয়া হবে না।

উল্লেখ্য মিসরের সেনাবাহিনীর কমপক্ষে ৫,০০০ অফিসার প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণ নিতে যায় এবং ইসরাইলের পর মিসরই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বৈদেশিক সহায়তা পায়!]।
নিচের লিংক ভিজিট করতে পারেন: http://www.globalresearch.ca/was-washington-behind-egypts-coup-detat/5341671

[ক্যু এর সময় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে টেলিযোগাযোগ]
http://www.ynetnews.com/articles/0,7340,L-4418953,00.html
[যুক্তরাষ্ট্রের বরাদ্দ বাতিল হবে না]

মিসরে যে ক্যু হয়েছে সেটা একটা প্রোপাগান্ডা ছিল এবং ইসরাইল সেটার পূর্ণ সমর্থন দিয়েছিল। ইসরাইলের সাথে যোগসূত্র স্থাপনকারী মিডিয়ার মাধ্যমে মিশরে ব্যপকভাবে অর্থায়নকৃত ক্যাম্পেইন চলে [মিসরের বড় বড় মিডিয়াগুলো ইসরাইলের তথা ইহুদিদের সাথে সম্পর্কিত]।
মিডিয়াগুলোই প্রসিডেন্ট মুরসিকে এডল্‌ফ হিটলারের সাথে তুলনা করছিল!
সত্যিকথা বলতে গেলে, ‘মুরসি=হিটলার’ বলে যারা প্রচরণা চালিয়ে যাচ্ছিল তারা মিশরীয় ছিলনা বরং তারা ছিল জায়োনিস্ট!

ক্যু-এর পর থেকে ইসরাইল মুক্তহস্তে আল-সিসির প্রতি প্রশংসা, টাকা-পয়সা এবং সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। মোসাদের এজেন্ট, গাজার সীমান্তের সুড়ঙ্গগুলো বন্ধ করে আল-সিসি ফিলিস্তিনের সাথে প্রায় যুদ্ধ ঘোষণা করে ফেলেছে যেহেতু এই মুক্ত সুড়ঙ্গগুলোই গাজাবাসীদের বাঁচিয়ে রাখছে। ইতোমধ্যে, আল-সিসি রথস্‌চাইল্ডের পুতুলদের [ডনমেহ বা গোপনে যার ইহুদি কিন্তু বাইরে মুসলিম দাবি করে, যেমন, মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক] কাছ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার নিয়েছে। ‌এই ডনমেহ হলো সৌদি সরকার [এরা যে ইহুদি তার অনেক প্রমাণ আছে]!!

সৌদিদের সাথে ইহুদির রক্ত সম্পর্ক জানতে নিচের লিংক ভিজিট করুন:http://www.strategic-culture.org/news/2011/10/26 /the-doenmeh-the-middle-easts- most-whispered-secret-part-ii.htm

—ড. কেভিন বারেট, ভেটেরান্স টুডের একজন কলামিস্ট
_ব্ল্যাক ফ্ল্যাগ_ 


সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

ক্রুসেড সম্পর্কে একটু ধারণা

ক্রুসেড সম্পর্কে একটু ধারণা !

ক্রুসেড শব্দটি দ্বারা মূলত ধর্মীয় যুদ্ধ বোঝানো হয়। তবে কোন রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উদ্দেশ্যের ব্যাপারে জনগণ শক্ত ধারণা পোষণ করলে তাকেও ক্রুসেড নাম দেয়া হয়ে থাকে। সাধারণ ভাবে বিশ্ব ইতিহাসে ক্রুসেড বলতে পবিত্র ভূমি অর্থাৎ জেরুজালেম এবং কন্সটান্টিনোপল এর অধিকার নেয়ার জন্য ইউরোপের খ্রিস্টানদের সম্মিলিত শক্তি মুসলমানদের বিরুদ্ধে ১০৯৫ - ১২৯১ সাল পর্যন্ত বেশ কয়েকবার যে যুদ্ধ অভিযান পরিচালনা করে সেগুলোকে বোঝায়। আসলে পূর্বাঞ্চলীয় অর্থডক্স বাইজেন্টাইন সম্রাট এই যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন আনাতোলিয়াতে মুসলমান সেলজুক সম্রাজ্যের বিস্তার রোধ করার জন্য।

প্রথমে ক্রুসেড বলতে মুসলমানদের কাছ থেকে জেরুসালেম শহর ফিরিয়ে নেওয়ার ইউরোপীয় প্রচেষ্টাকে বোঝানো হত। পরবর্তীতে অ-খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে ইউরোপীয়দের যেকোন সামরিক প্রচেষ্টাকে ক্রুসেড বলা শুরু হয়।

ক্রুসেডারেরা মধ্যপ্রাচ্যে সামন্তবাদী রাজ্য স্থাপনে সমর্থ হয়েছিল। তাই ক্রুসেডগুলিকে ইউরোপীয় সম্প্রসারণবাদ ও উপনিবেশবাদের একটি আদি রূপ হিসেবে কল্পনা করা যেতে পারে। এগুলিতেই প্রথমবারের মত ইউরোপীয় খ্রিস্টানেরা দেশ থেকে বহুদূরে সামরিক অভিযানে বের হয় এবং বহু সংখ্যায় তাদের সংস্কৃতি ও ধর্ম বিদেশে নিয়ে যাবার চেষ্টা চালায়।

ক্রুসেডগুলি ছিল যুদ্ধভিত্তিক খ্রিস্টধর্ম ও খ্রিস্টান ইউরোপের সম্প্রসারণের বহিঃপ্রকাশ। এগুলিতে ধর্মীয় চেতনার সাথে ধর্মনিরপেক্ষ সামরিক চিন্তাধারার মিলন ঘটেছিল। এগুলির ফলে খ্রিস্টানেরা অন্য সংস্কৃতিতে বাস করা শেখে এবং একই সাথে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির মাধ্যমে এগুলিকে প্রভাবিত করে। এগুলি আজও ইউরোপে মধ্যযুগের সবচেয়ে বিখ্যাত ঘটনা হিসেবে দেখা হয়।

ক্লেরমন্তে পোপ ২য় উর্বানের ভাষণে ক্রুসেডের বীজ বপিত হয়েছিল। সেলজুক তুর্কিদের বিরুদ্ধে বাইজেন্টীয় সম্রাট আলেক্সিস সাহায্য চেয়ে পাঠান এবং ফিলিস্তিনে খ্রিস্টান তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তার ব্যাপারে উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়। পোপ উর্বান তাঁর ভাষণে সম্রাট শার্লমাঞ কীভাবে স্যাক্সনদেরকে বলপ্রয়োগে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণে বাধ্য করেছিলেন এবং স্পেনের মুসলিম শাসকদের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন, তার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

শার্লমাঞ ছিলেন ফ্রাংক জাতির রাজা। ৮১৪ সালে তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর সাম্রাজ্যের পতন ঘটে এবং খ্রিস্টান ইউরোপ আক্রমণের সম্মুখীন হয়। এশিয়া থেকে মজর নামের যাযাবর জাতিরা এসে পূর্ব ও মধ্য ইউরোপে লুটতরাজ আরম্ভ করে এবং ১০ম শতক পর্যন্ত তা অব্যাহত রাখে। ৮০০ সাল থেকে উত্তর ইউরোপে ভাইকিংয়েরা দস্যুগিরি শুরু করে। তারা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলেও হানা দেয়। কিন্তু ইউরোপীয় খ্রিস্টানদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায় ইসলামের প্রসার। ইসলামের সামরিক শক্তি ৮ম শতকের মধ্যেই ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীর, উত্তর আফ্রিকা এবং স্পেনের অধিকাংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনে। তারা ইতালিতে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে, গ্রিকদের চিরায়ত সংস্কৃতির ধারক বাইজেন্টীয় সাম্রাজ্যের ক্ষমতা খর্ব করে এবং সাম্রাজ্যের রাজধানী কন্সতান্তিনোপল অবরোধ করে। ভাইকিং বা মজর জাতির তুলনায় ইসলামের হুমকি ছিল দ্বিমুখী; এটি ছিল সংস্কৃতি ও ধর্ম উভয়ের যুদ্ধ।

কিন্তু ১১শ শতকে শক্তির ভারসাম্য পশ্চিমের দিকে হেলতে শুরু করে। খ্রিস্টানদের গির্জা কেন্দ্রীভূত হয়। রাজারা সরকারব্যবস্থায় বিশপদের নিয়োগ দেয়া শুরু করেন। বহু বছরের মধ্যে প্রথমবারের মত পোপেরা ইউরোপের জনমতকে নিজেদের পেছনে একতাবদ্ধ করতে সক্ষম হন। ফলে ক্রুসেড আরম্ভ করা সহজ হয়ে ওঠে।

অধিকন্তু, এসময় ইউরোপের জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এখানকার নগরজীবনে এসেছিল নতুন জোয়ার। স্থানীয় ও দূরবর্তী বাণিজ্য রমরমা ভাব ধারণ করছিল। ইউরোপের মনুষ্য ও অর্থনৈতিক সম্পদ ক্রুসেডের ব্যয়ভার বহনের উপযোগী হয়ে ওঠে। পূর্বে ইউরোপীয় বণিকেরা ভূমধ্যসাগর অঞ্চলের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকত। এবার তারা দ্রব্য, পরিবহন ও লাভের উপর অধিকতর নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের ব্যাপারে উচ্চাভিলাষী হয়ে ওঠে। এই পার্থিব অভিলাষ ও পবিত্র ভূমি সম্পর্কে ধর্মীয় অনুভূতির মিশেল, এবং পোপের নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষমতা --- এ সবই ক্রুসেডের জন্য পশ্চিম ইউরোপীয় খ্রিস্টানদের প্রস্তুত করে তোলে।
 
by
Safil Uddin Bhuiyan

শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

ইসলামিক দাওয়ার দুটি কিঞ্চিৎ পরীক্ষা

বর্তমান সময়ে ইসলামিক দাওয়ার দুটি শ্রেণী লক্ষ্য করলাম এবং কিঞ্চিৎ পরীক্ষাও করলাম।

১। জনপ্রিয় দাওয়া - এই প্রকারের দাওয়ার নাম শুনলে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করে। কারণ এই জাহেল সময়ে দাওয়া জনপ্রিয় হওয়া ভয়াবহ ব্যাপার। তবুও হকপন্থি অনেক আলিম, শায়খ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন এবং তা দ্বীনের জন্য মঙ্গলজনকও বটে। কিন্তু হকের দাওয়া করে এটাকে জনপ্রিয় করে তোলা আর জনগণের মনমত দাওয়া করা দুইটার মাঝে সমূহ পার্থক্য বিদ্যমান।

র্তমান সময়ে মানুষ যখন প্রবৃত্তির দাসত্ব মেনে নিয়েছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের ''টিকে থাকার প্রবণতার'' ( survival instinct) সাথে যে উপদেশ বাণী বিরুদ্ধাচরণ করে না, তা তারা খুব ভালভাবে গ্রহণ করে। তাই পারিবারিক আইন আর রাজনীতি ব্যতিত মু'য়ামালাত সংক্রান্ত ইসলামিক নীতি অনেকেই গ্রহণ করে এবং এই বিষয়ের দাওয়া যারা করেন উনাদের খুব বেশি প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয় না। যেমন- বলা যায় যে তাবলীগের ভাইদের নাকি ইসরায়েলেও বাধা দেয় না। না, আমি সমালোচনা করছি না। এটাকে হকের বাইরেও বলছি না। কিন্তু কিছু বিষয়কে পাশ কাটিয়ে দাওয়া করা ঠিক পরিপূর্ণ ইসলামকে উপস্থাপন করে না।

এই ক্ষেত্রে আরও মজার ব্যাপার হল পারিবারিক আইনগুলোতে পর্যন্ত যেটুকু যার কাজে লাগে ওইটুকু নেয়ার মানসিকতা একটি ভয়াবহ ব্যাধি। কয়েকদিন আগে বিবাহ পরবর্তী আলাদা বাসায় থাকা নিয়ে একটি পরীক্ষামূলক পোস্ট দিয়েছিলাম। কথাগুলো আমার জানামতে হক বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু যে পর্দা রক্ষার জন্য আলাদা থাকা সে পর্দা রক্ষা না করে প্রোফাইল পিক এ বেপর্দা ছবি দেওয়া বোনও ঐটা শেয়ার করেছেন। আরেকজন দেখি প্রেমিককে ট্যাগ করে শেয়ার দিয়েছেন। কি এক অবস্থা!!!!!!!! ( হয়ত এই পোস্টের পর বোনেরা আমার স্ট্যাটাস এ লাইক, শেয়ার বন্ধ করে দিবেন, তবু সত্য বলতেই হবে)

যাইহোক যারা এই ধরণের দাওয়া করতে পছন্দ করেন, উনারা হয়ত সাময়িক জনপ্রিয়তা পাবেন। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হল আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়ার আর কিছুই রইল না।

২। অজনপ্রিয় দাওয়া - এইসব দাওয়াকারীগণ দুনিয়ার কোন ধরণের আকর্ষণে নয়, বরং এই বিশ্বজাহানের প্রতিপালকের সন্তুষ্টির জন্য দাওয়া করে থাকেন। কে কি মনে করল, কি ট্যাগ দিল, কোন দলের প্রতিনিধি বানাল, কতটুকু গ্রহণ করল এইসব উনাদের চিন্তার অনেক দূরে। এই সমস্ত মহামানবেরা গুটিকয়েক মানুষের হয়ত পরিচিত, হয়ত কেউ উনাদের চেহারাও ঠিকমত চিনে না। কিন্তু একসময় এই হকের দাওয়ার আওয়াজ বুলন্দ হয়। হয়ত তখন তিনি দুনিয়াতেই নাই। এই প্রসঙ্গে রাসুল(সাঃ) এর সাহাবা(রাঃ) গণের কিংবা তাবীঈগণের উদাহরণ দিতে পারি। তবে আমি এই শতকের দুইজন মহামানবের উদাহরণ দিব।

ইমাম আনোয়ার আল আউলাকি(রহিঃ), যিনি আমেরিকার মত জায়গায় জন্মেছিলেন আর অনেক বড় বড় ডিগ্রীও নিয়েছিলেন। ইচ্ছা করলে হোয়াইট হাউসের আস্থাভাজন হয়ে পৃথিবীব্যাপী চরম জনপ্রিয় লোক হিসাবে নিজের জীবন কাটিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু এই আল্লাহর প্রিয় বান্দা নিজের জীবনকে জিহাদের ময়দানে কাটিয়ে অবশেষে সেই মার্কিন ড্রোনের আঘাতে শাহাদাত বরণ করলেন। রেখে গেলেন কোটি তরুনের জীবনের গতিপথ পাল্টে দেয়া কিছু লেকচার। আল্লাহ্‌ উনাকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন।

আল্লাহ্‌র রাসুলের(সাঃ) সাহাবী হজরত তামিম আত দারির(রাঃ) উত্তরপুরুষ, বিখ্যাত মুজতাহিদ শায়খ ইয়ুসুফ আন নাবাহানির নাতি, যার মা বাবা দুইজনই ছিলেন মুজতাহিদ সেই শায়খ তাকি উদ্দিন আন নাবাহানি(রহিঃ)। জর্ডান শরিয়া আদালতের বিচারক ছিলেন। কিন্তু শরিয়ার প্রয়োগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর চাকরি ছেড়ে দিলেন আর খিলাফাহ পুনঃ প্রতিষ্ঠার কাজে আত্মনিয়োগ করলেন। জর্ডান সীমান্তে ইসরায়েল বিরোধী জিহাদেও ছিলেন। অবশেষে দ্বীনের পরিশুদ্ধ রূপ খুঁজতে গিয়ে নিজের পরিচিতি, প্রতিপত্তি কোন কিছুর দিকে খেয়াল রাখেন নাই। নিদাম উল ইসলাম, আত তাকাতুল আল হিজবি, আত দউলা আল ইসলামিয়াহ, আত তাফকির এর মত কালজয়ী কিছু বই লিখে গেলেন। খিলাফাহ পুনঃ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করতে গিয়ে হিজব উত তাহরির এর প্রতিষ্ঠা করলেন।

দাওয়ার কাজে বহুবার নির্যাতিত হলেন। অবশেষে জর্ডান সীমান্তে সীমান্ত রক্ষীদের হাতে ধরা পড়লেন। কিন্তু তখনও রক্ষীরা চিনতে পারেনি এই লোক কে? কারণ তিনি জর্ডান সরকারের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিলেন। যখন জিজ্ঞাসা করল, আপনি কে? উত্তরে বললেন, আমি একজন বৃদ্ধ মানুষ যে চিকিৎসার খোঁজে বের হয়েছে। উনার কথার অর্থ হল উনি অসুস্থ উম্মাহর চিকিৎসার খোঁজে বের হয়েছেন। তারা অনেক নির্যাতন করে ছেড়ে দিল। এবং ঐ আহত অবস্থায় উনার মৃত্যু হয়। অল্প কিছু মানুষ উনার জানাজা পড়েন। অবশেষে সত্যিকারের ''গুরাবা'' বা অপরিচিতের মত এই দুনিয়া ছেড়ে যান। আল্লাহ্‌ উনাকে কবুল করুন, জান্নাতুল ফিরদাউসের বাসিন্দা করুন এবং উনার খিলাফাহ প্রতিষ্ঠার দাওয়াকে পূর্ণতা দান করুন, এই মুসলিম উম্মাহকে খিলাফাহর ছায়ায় নিয়ে আসুন। আমিন





দাওয়াহ এবং জিহাদ দুইটাই ইসলামি রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ।।
 
মুজাহিদ বলতে কেবল প্রত্যক্ষভাবে জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহরত মুসলিমদের বুঝানো হয় ।। কোন ব্যক্তি যতক্ষণ অবধি প্রত্যক্ষ জিহাদে অংশগ্রহন করবে করবে না ততখন অবধি তাকে মুজাহিদ বলাটা বোকামি এবং ভুল ।। তবে একজন মুসলিমকে অবশ্যই মুজাহিদ এবং শহীদ হবার কমপক্ষে আন্তরিক ইচ্ছাটুকু রাখতে হবে ।। নুন্যতমভাবে আন্তরিক ইচ্ছাটুকু যদি না থাকে তবে সে মুসলিম নয় , মুনাফিক ।। সহিহ দুই খানা হাদিস দ্বারা যেসব ব্যক্তি কমপক্ষে হলেও জিহাদে অংশগ্রহন করার এবং শহীদ হবার আন্তরিক ইচ্ছাটুকু না রাখে তাদেরকে মুনাফিক হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে ।।
তবে জিহাদ অংশগ্রহন করার আগে অবশ্যই সংঘটিত হওয়া জরুরী ।। কারন জিহাদ একতাবদ্ধ অর্থাৎ জমায়েতবদ্ধভাবে করতে হয় ।। ইসলামি রাষ্ট্র অর্থাৎ খিলাফাহ না থাকলে তখন জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহের প্রাথমিক লক্ষ্য হবে খিলাফাহকে ফিরিয়ে আনা কারন খিলাফাহ অর্থাৎ ই্সলামি রাষ্ট্র ছাড়া তাওহিদ প্রতিষ্ঠা অসম্ভব এবং জিহাদের মূল লক্ষই হল আল্লাহর জমিনে তাওহিদ প্রতিষ্ঠা করা ।। আল - কুরআনে সালাতের (নামাজের ) হুকুম থেকেও বেশি এসেছে জিহাদের হুকুম ।। তাই শরিয়ার দৃষ্টিকোণ হতে সালাত এবং জিহাদের বিরোধিতা করা একই ধরনের জঘন্য অপরাধ ।।