ইসলামিক চেতনা ও রাসুল(সাঃ) এর পদ্ধতি
কোন জাতির চেতনার উত্স মানে, "যেই উত্স হইতে ঐ জাতির ঐক্যবদ্ধ থাকিবার চেতনা মিলে এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে জাতিকে উদ্দীপ্ত করে।" ইসলামে জীবনবিধান এবং চেতনা একটি উত্স হইতেই আসে। তাহা হইল 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'। ইসলামের বিজয়গাঁথা কিংবা মহান ইতিহাস আমাদিগকে প্রেরণা যোগায়, উদ্দীপ্ত করে।
আইয়্যামে জাহেলিয়াতে ওইখানকার গোত্রপতিগণ তত্কালীন মক্কার পার্লামেন্ট 'দারুন নদওয়াতে' মিলিত হইয়া তাহাদের গোত্রীয় বিধান তৈরী করিত। আবার তাহাদের প্রত্যেক গোত্রের আলাদা করিয়া মূর্তি ছিল। যাহা ছিল তাহাদের ঐক্য ও চেতনার উত্স। সবগুলো গোত্র আবার উঁচু পাহাড়ে স্থাপিত দৈত্যাকার হুবাল মূর্তিকে শ্রদ্ধা করিত। মানে কিছু মূর্তি গোত্রীয় চেতনা জাগাইত আর লাত, মানাত, উজ্জা আর হুবাল জাতীয় ঐক্যের প্রতিক ছিল।
ইসলাম আসিয়া তাহাদের যেমন আইন তৈরীর ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করে , তেমনি ঐক্যের প্রতিক এইসব মূর্তির অসারতা তুলিয়া ধরে। তখনি আবু জাহলরা খেপিয়া উঠে আর তাহাদের জাতীয় চেতনা জাগাইতে মক্কার কবিগণকে লাত, মানাত, উজ্জার মহিমা নিয়া উদ্দীপক কবিতার আসর বসাইত। ঠিক তেমনি করিয়া নও মুসলিমদের যখন পিটাইত তখন আবু জাহল, "ওয়া লাত ওয়াল উজ্জা" বলিয়া শপথ করিয়া পিটাইত। আর উমাইয়া ইবনে খালফ যখন একি শপথ করিয়া এই উম্মাহর লৌহপুরুষ হযরত বিলালকে(রাঃ) আঘাত করিতেছিল তখন ঐ ধৈর্য্যের পাহাড় চিত্কার করিয়া বলিতেছিলেন, "আহাদুন আহাদ"।
একি সময়ে রাসূল(সাঃ) কে প্রস্তাব দেওয়া হইতেছিল ঐ দারুন নদওয়াতে অংশগ্রহন করিতে। এমনকি ওইখানকার প্রধান হইয়া যাইতে। কিন্তু রাসূল(সাঃ) কোনরূপ কৌশলের নাম দিয়াও পরিপূর্ণ ইসলাম ব্যতিত ঐ সংসদে অংশগ্রহণ করেন নাই। আবার অনেক গোত্র বলিয়াছিল ঠিক আছে আমরা ইসলাম নিব তবে বছরে একদিন আমাদের মূর্তি হইতে চেতনা নিতে দাও। কিন্তু রাসূল(সাঃ) ইহাতেও রাজি হন নাই। ইহা ব্যতিত তায়েফের বনি আমর আল সাসা গোত্র প্রস্তাব দিল যে, ‘’আমরা ইসলাম মানিয়া নিব তবে তোমার( রাসুল (সাঃ) পরবর্তী আমরাই শাসক হইব।‘’ কিন্তু আল্লাহর রাসুল(সাঃ) কহিলেন, ‘’ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ হইতে আসে।‘’ অর্থাৎ শর্তহীন বায়’আত উনি চাহিয়াছিলেন।
অন্য একটা গোত্র সবকিছু মানিয়া নিয়া কেবল পারস্য ও রোম নামক তৎকালীন পরাশক্তির বিরোধিতা করিতে অস্বীকার করে। কিন্তু অইক্ষেত্রেও আল্লাহর রাসুল(সাঃ) প্রত্যাখ্যান করেন। কেননা একমাত্র আল্লাহ্ ব্যতিত দুনিয়ার কোন পরাশক্তির ভয় নিয়া ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হইবে না। অতঃপর যখন হযরত তুফাইল ইবনে আমর আদ দাউসির গোত্র আদ দাউস পরিপূর্ণ বায়’আত দেয়, তখনও ইহা প্রত্যাখ্যাত হয় কেননা ঐ গোত্রের সামরিক সামর্থ্য এবং অবস্থানগত দুর্বলতা ছিল। অবশেষে মদীনা হইতে পরিপূর্ণ আনুগত্যের শপথ পাওয়ার পর ওইখানে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়।
লক্ষণীয় যে ইয়াসরিব তথা মদিনা ছিল একটা বানিজ্য রুট যাহার গুরুত্ব মক্কা কিংবা বহির্বিশ্বের জন্য ছিল অপরিসীম। অপরদিকে মদিনার সামরিক শক্তির অধিকারী আউস এবং খাজরাজ পরিপূর্ণ আনুগত্যের শপথ করে যাহা আকাবার ২য় বায়’আত নামে স্বীকৃত। শক্তির দিক হইতেও মদিনা বেশ উল্লেখ করার মত ছিল। তাই রাসুলের(সাঃ) পদ্ধতি অনুসরণ করিয়া খিলাফাহ প্রতিষ্ঠা করিতে গেলে এই সমস্ত বিষয় বিবেচনায় নিতে হইবে।
আজকেও আমরা দেখি আইন মানুষ তৈরী করিতেছে সংসদে। চেতনার উত্সরূপে প্রতিটি মোড়ে মূর্তির সমারোহ আর পুরো জাতির ঐক্যের প্রতিকরূপে বিশাল মিনার আর সৌধের হুবাল আর লাত মানাতের উপস্থিতি। আবার আবু জাহলের মত ওয়া লাত ওয়াল মানাতের জায়গায় হাজার বছরের বাঙালী ঐতিহ্য আর বিশেষ দিবসের স্মরণে স্থাপিত চেতনামূর্তির কসম দিয়া ইসলামকে দমন করিবার চেষ্টা। সব কেমন করিয়া মিলিয়া যাইতেছে। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হইতেছে। তাই আজ যাহারা পূঁজার মৃর্তি আর চেতনার মূর্তির পার্থক্য করিতেছেন তাহারা মুসলিমদের সুস্পষ্ট ধোঁকায় ফেলিতেছেন। আবার যেই সমস্ত ইসলামী দল জাতীয় পতাকা নিয়া আন্দোলন করিয়া ইসলাম প্রতিষ্ঠার আশা করিতেছেন তাহারাও মূলত বছরে একদিন মূর্তিচেতনার মত ঐসমস্ত সৌধ আর মিনারের স্বীকৃতি দিয়া যাইতেছেন যাহা সুস্পষ্ট কুফর।
তাই এই সময়ের ইসলাম প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি হিসাবে না কোন কুফর সিস্টেমের অংশ হওয়া যাইবে, না কোন পরাশক্তির তোষামোদি করিয়া ইসলামিক রাষ্ট্র আসিবে। এই প্রসঙ্গে ইমাম মালিক(রহিঃ) বলিয়াছিলেন, ‘’এই উম্মাহর শেষ অংশ ততক্ষন সফল হইবে না যতক্ষণ না ইহার প্রথম অংশকে অনুসরণ করিবে।‘’ কারণ এই উম্মাহর শেষ অংশ এমন এক অবস্থার মুখোমুখি হইয়াছে যাহা কেবল প্রথম অংশই দেখিয়াছিল। এই অবস্থা হইল রাষ্ট্র ব্যবস্থা হিসাবে ইসলাম না থাকা। উম্মাহর বাকি অংশ খিলাফাহর অধীনে ছিলেন তাই ব্যবস্থা পরিবর্তনের কাজ উনাদের করিতে হয় নাই। বড়জোর শাসকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করিতে হইয়াছিল, শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে নয়। যেমনঃ ইমাম আবু হানিফা(রহঃ) জেল খাটিয়াছিলেন খলিফা মনসুরের বিরুদ্ধে আন্দোলন করিয়া।
তাই এখনো যদি আপনাদের সঠিক ইসলাম বুঝিবার চেতনা না জাগে তবে জানিয়া রাখুন এই সমস্ত জাতীয় চেতনার ইসলামী আন্দোলনে যদি ১০কোটি মানুষও হয়, তবু ইসলাম প্রতিষ্ঠা হইবে না বড়জোর আপনারা ক্ষমতায় আসিবেন। মিসরে মুরসির সমর্থনে মিলিয়ন মানুষ রাস্তায় নামিলেও সিসির কিছুই হয় নাই। ইহা ছাড়া কুফর পদ্ধতিতে ক্ষমতা পাইয়াও ধরিয়া রাখিতে পারেন নাই। উল্টা সিনাইয়ে মুজাহিদ হত্যা, ন্যুড বিচ চালু রাখা আর গাজার টানেল ধ্বংসের মত অপবাদ নিয়া ক্ষমতা হইতে নামিতে হইল। আলজেরিয়ার ইসলামিক স্যালভেশন ফ্রন্ট ইহার অপর একটা উদাহরণ যাহারা ৮২% ভোট পাইয়াও ক্ষমতা পায় নাই। মূলত রাষ্ট্র পরিবর্তনে যেই সমস্ত উপাদান সমুহে পরিবর্তন আনিতে হয় তাহা না আনিলে কেবল জনসমর্থন নিয়া শাসক পালটাইবে, ব্যবস্থা নয়। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আমাদিগকে সঠিক পদ্ধতিতে খিলাফাহ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শরিক হইবার তৌফিক দিন।

আইয়্যামে জাহেলিয়াতে ওইখানকার গোত্রপতিগণ তত্কালীন মক্কার পার্লামেন্ট 'দারুন নদওয়াতে' মিলিত হইয়া তাহাদের গোত্রীয় বিধান তৈরী করিত। আবার তাহাদের প্রত্যেক গোত্রের আলাদা করিয়া মূর্তি ছিল। যাহা ছিল তাহাদের ঐক্য ও চেতনার উত্স। সবগুলো গোত্র আবার উঁচু পাহাড়ে স্থাপিত দৈত্যাকার হুবাল মূর্তিকে শ্রদ্ধা করিত। মানে কিছু মূর্তি গোত্রীয় চেতনা জাগাইত আর লাত, মানাত, উজ্জা আর হুবাল জাতীয় ঐক্যের প্রতিক ছিল।
ইসলাম আসিয়া তাহাদের যেমন আইন তৈরীর ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করে , তেমনি ঐক্যের প্রতিক এইসব মূর্তির অসারতা তুলিয়া ধরে। তখনি আবু জাহলরা খেপিয়া উঠে আর তাহাদের জাতীয় চেতনা জাগাইতে মক্কার কবিগণকে লাত, মানাত, উজ্জার মহিমা নিয়া উদ্দীপক কবিতার আসর বসাইত। ঠিক তেমনি করিয়া নও মুসলিমদের যখন পিটাইত তখন আবু জাহল, "ওয়া লাত ওয়াল উজ্জা" বলিয়া শপথ করিয়া পিটাইত। আর উমাইয়া ইবনে খালফ যখন একি শপথ করিয়া এই উম্মাহর লৌহপুরুষ হযরত বিলালকে(রাঃ) আঘাত করিতেছিল তখন ঐ ধৈর্য্যের পাহাড় চিত্কার করিয়া বলিতেছিলেন, "আহাদুন আহাদ"।
একি সময়ে রাসূল(সাঃ) কে প্রস্তাব দেওয়া হইতেছিল ঐ দারুন নদওয়াতে অংশগ্রহন করিতে। এমনকি ওইখানকার প্রধান হইয়া যাইতে। কিন্তু রাসূল(সাঃ) কোনরূপ কৌশলের নাম দিয়াও পরিপূর্ণ ইসলাম ব্যতিত ঐ সংসদে অংশগ্রহণ করেন নাই। আবার অনেক গোত্র বলিয়াছিল ঠিক আছে আমরা ইসলাম নিব তবে বছরে একদিন আমাদের মূর্তি হইতে চেতনা নিতে দাও। কিন্তু রাসূল(সাঃ) ইহাতেও রাজি হন নাই। ইহা ব্যতিত তায়েফের বনি আমর আল সাসা গোত্র প্রস্তাব দিল যে, ‘’আমরা ইসলাম মানিয়া নিব তবে তোমার( রাসুল (সাঃ) পরবর্তী আমরাই শাসক হইব।‘’ কিন্তু আল্লাহর রাসুল(সাঃ) কহিলেন, ‘’ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ হইতে আসে।‘’ অর্থাৎ শর্তহীন বায়’আত উনি চাহিয়াছিলেন।
অন্য একটা গোত্র সবকিছু মানিয়া নিয়া কেবল পারস্য ও রোম নামক তৎকালীন পরাশক্তির বিরোধিতা করিতে অস্বীকার করে। কিন্তু অইক্ষেত্রেও আল্লাহর রাসুল(সাঃ) প্রত্যাখ্যান করেন। কেননা একমাত্র আল্লাহ্ ব্যতিত দুনিয়ার কোন পরাশক্তির ভয় নিয়া ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হইবে না। অতঃপর যখন হযরত তুফাইল ইবনে আমর আদ দাউসির গোত্র আদ দাউস পরিপূর্ণ বায়’আত দেয়, তখনও ইহা প্রত্যাখ্যাত হয় কেননা ঐ গোত্রের সামরিক সামর্থ্য এবং অবস্থানগত দুর্বলতা ছিল। অবশেষে মদীনা হইতে পরিপূর্ণ আনুগত্যের শপথ পাওয়ার পর ওইখানে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়।
লক্ষণীয় যে ইয়াসরিব তথা মদিনা ছিল একটা বানিজ্য রুট যাহার গুরুত্ব মক্কা কিংবা বহির্বিশ্বের জন্য ছিল অপরিসীম। অপরদিকে মদিনার সামরিক শক্তির অধিকারী আউস এবং খাজরাজ পরিপূর্ণ আনুগত্যের শপথ করে যাহা আকাবার ২য় বায়’আত নামে স্বীকৃত। শক্তির দিক হইতেও মদিনা বেশ উল্লেখ করার মত ছিল। তাই রাসুলের(সাঃ) পদ্ধতি অনুসরণ করিয়া খিলাফাহ প্রতিষ্ঠা করিতে গেলে এই সমস্ত বিষয় বিবেচনায় নিতে হইবে।
আজকেও আমরা দেখি আইন মানুষ তৈরী করিতেছে সংসদে। চেতনার উত্সরূপে প্রতিটি মোড়ে মূর্তির সমারোহ আর পুরো জাতির ঐক্যের প্রতিকরূপে বিশাল মিনার আর সৌধের হুবাল আর লাত মানাতের উপস্থিতি। আবার আবু জাহলের মত ওয়া লাত ওয়াল মানাতের জায়গায় হাজার বছরের বাঙালী ঐতিহ্য আর বিশেষ দিবসের স্মরণে স্থাপিত চেতনামূর্তির কসম দিয়া ইসলামকে দমন করিবার চেষ্টা। সব কেমন করিয়া মিলিয়া যাইতেছে। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হইতেছে। তাই আজ যাহারা পূঁজার মৃর্তি আর চেতনার মূর্তির পার্থক্য করিতেছেন তাহারা মুসলিমদের সুস্পষ্ট ধোঁকায় ফেলিতেছেন। আবার যেই সমস্ত ইসলামী দল জাতীয় পতাকা নিয়া আন্দোলন করিয়া ইসলাম প্রতিষ্ঠার আশা করিতেছেন তাহারাও মূলত বছরে একদিন মূর্তিচেতনার মত ঐসমস্ত সৌধ আর মিনারের স্বীকৃতি দিয়া যাইতেছেন যাহা সুস্পষ্ট কুফর।
তাই এই সময়ের ইসলাম প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি হিসাবে না কোন কুফর সিস্টেমের অংশ হওয়া যাইবে, না কোন পরাশক্তির তোষামোদি করিয়া ইসলামিক রাষ্ট্র আসিবে। এই প্রসঙ্গে ইমাম মালিক(রহিঃ) বলিয়াছিলেন, ‘’এই উম্মাহর শেষ অংশ ততক্ষন সফল হইবে না যতক্ষণ না ইহার প্রথম অংশকে অনুসরণ করিবে।‘’ কারণ এই উম্মাহর শেষ অংশ এমন এক অবস্থার মুখোমুখি হইয়াছে যাহা কেবল প্রথম অংশই দেখিয়াছিল। এই অবস্থা হইল রাষ্ট্র ব্যবস্থা হিসাবে ইসলাম না থাকা। উম্মাহর বাকি অংশ খিলাফাহর অধীনে ছিলেন তাই ব্যবস্থা পরিবর্তনের কাজ উনাদের করিতে হয় নাই। বড়জোর শাসকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করিতে হইয়াছিল, শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে নয়। যেমনঃ ইমাম আবু হানিফা(রহঃ) জেল খাটিয়াছিলেন খলিফা মনসুরের বিরুদ্ধে আন্দোলন করিয়া।
তাই এখনো যদি আপনাদের সঠিক ইসলাম বুঝিবার চেতনা না জাগে তবে জানিয়া রাখুন এই সমস্ত জাতীয় চেতনার ইসলামী আন্দোলনে যদি ১০কোটি মানুষও হয়, তবু ইসলাম প্রতিষ্ঠা হইবে না বড়জোর আপনারা ক্ষমতায় আসিবেন। মিসরে মুরসির সমর্থনে মিলিয়ন মানুষ রাস্তায় নামিলেও সিসির কিছুই হয় নাই। ইহা ছাড়া কুফর পদ্ধতিতে ক্ষমতা পাইয়াও ধরিয়া রাখিতে পারেন নাই। উল্টা সিনাইয়ে মুজাহিদ হত্যা, ন্যুড বিচ চালু রাখা আর গাজার টানেল ধ্বংসের মত অপবাদ নিয়া ক্ষমতা হইতে নামিতে হইল। আলজেরিয়ার ইসলামিক স্যালভেশন ফ্রন্ট ইহার অপর একটা উদাহরণ যাহারা ৮২% ভোট পাইয়াও ক্ষমতা পায় নাই। মূলত রাষ্ট্র পরিবর্তনে যেই সমস্ত উপাদান সমুহে পরিবর্তন আনিতে হয় তাহা না আনিলে কেবল জনসমর্থন নিয়া শাসক পালটাইবে, ব্যবস্থা নয়। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আমাদিগকে সঠিক পদ্ধতিতে খিলাফাহ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শরিক হইবার তৌফিক দিন।

আজকেও
আমরা দেখি আইন মানুষ তৈরী করিতেছে সংসদে। চেতনার উত্সরূপে প্রতিটি মোড়ে
মূর্তির সমারোহ আর পুরো জাতির ঐক্যের প্রতিকরূপে বিশাল মিনার আর সৌধের
হুবাল আর লাত মানাতের উপস্থিতি। আবার আবু জাহলের মত ওয়া লাত ওয়াল মানাতের
জায়গায় হাজার বছরের বাঙালী ঐতিহ্য আর বিশেষ দিবসের স্মরণে স্থাপিত
চেতনামূর্তির কসম দিয়া ইসলামকে দমন করিবার চেষ্টা। সব কেমন করিয়া মিলিয়া
যাইতেছে। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হইতেছে। তাই আজ যাহারা পূঁজার মৃর্তি আর
চেতনার মূর্তির পার্থক্য করিতেছেন তাহারা মুসলিমদের সুস্পষ্ট ধোঁকায়
ফেলিতেছেন। আবার যেই সমস্ত ইসলামী দল জাতীয় পতাকা নিয়া আন্দোলন করিয়া
ইসলাম প্রতিষ্ঠার আশা করিতেছেন তাহারাও মূলত বছরে একদিন মূর্তিচেতনার মত
ঐসমস্ত সৌধ আর মিনারের স্বীকৃতি দিয়া যাইতেছেন যাহা সুস্পষ্ট কুফর।
ইসলাম
আসিয়া তাহাদের যেমন আইন তৈরীর ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করে , তেমনি ঐক্যের
প্রতিক এইসব মূর্তির অসারতা তুলিয়া ধরে। তখনি আবু জাহলরা খেপিয়া উঠে আর
তাহাদের জাতীয় চেতনা জাগাইতে মক্কার কবিগণকে লাত, মানাত, উজ্জার মহিমা
নিয়া উদ্দীপক কবিতার আসর বসাইত। ঠিক তেমনি করিয়া নও মুসলিমদের যখন পিটাইত
তখন আবু জাহল, "ওয়া লাত ওয়াল উজ্জা" বলিয়া শপথ করিয়া পিটাইত। আর উমাইয়া
ইবনে খালফ যখন একি শপথ করিয়া এই উম্মাহর লৌহপুরুষ হযরত বিলালকে(রাঃ) আঘাত
করিতেছিল তখন ঐ ধৈর্য্যের পাহাড় চিত্কার করিয়া বলিতেছিলেন, "আহাদুন আহাদ"।
একি সময়ে রাসূল(সাঃ) কে প্রস্তাব দেওয়া হইতেছিল ঐ দারুন নদওয়াতে অংশগ্রহন করিতে। এমনকি ওইখানকার প্রধান হইয়া যাইতে। কিন্তু রাসূল(সাঃ) কোনরূপ কৌশলের নাম দিয়াও পরিপূর্ণ ইসলাম ব্যতিত ঐ সংসদে অংশগ্রহণ করেন নাই। আবার অনেক গোত্র বলিয়াছিল ঠিক আছে আমরা ইসলাম নিব তবে বছরে একদিন আমাদের মূর্তি হইতে চেতনা নিতে দাও। কিন্তু রাসূল(সাঃ) ইহাতেও রাজি হন নাই। ইহা ব্যতিত তায়েফের বনি আমর আল সাসা গোত্র প্রস্তাব দিল যে, ‘’আমরা ইসলাম মানিয়া নিব তবে তোমার( রাসুল (সাঃ) পরবর্তী আমরাই শাসক হইব।‘’ কিন্তু আল্লাহর রাসুল(সাঃ) কহিলেন, ‘’ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ হইতে আসে।‘’ অর্থাৎ শর্তহীন বায়’আত উনি চাহিয়াছিলেন।
একি সময়ে রাসূল(সাঃ) কে প্রস্তাব দেওয়া হইতেছিল ঐ দারুন নদওয়াতে অংশগ্রহন করিতে। এমনকি ওইখানকার প্রধান হইয়া যাইতে। কিন্তু রাসূল(সাঃ) কোনরূপ কৌশলের নাম দিয়াও পরিপূর্ণ ইসলাম ব্যতিত ঐ সংসদে অংশগ্রহণ করেন নাই। আবার অনেক গোত্র বলিয়াছিল ঠিক আছে আমরা ইসলাম নিব তবে বছরে একদিন আমাদের মূর্তি হইতে চেতনা নিতে দাও। কিন্তু রাসূল(সাঃ) ইহাতেও রাজি হন নাই। ইহা ব্যতিত তায়েফের বনি আমর আল সাসা গোত্র প্রস্তাব দিল যে, ‘’আমরা ইসলাম মানিয়া নিব তবে তোমার( রাসুল (সাঃ) পরবর্তী আমরাই শাসক হইব।‘’ কিন্তু আল্লাহর রাসুল(সাঃ) কহিলেন, ‘’ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ হইতে আসে।‘’ অর্থাৎ শর্তহীন বায়’আত উনি চাহিয়াছিলেন।

