শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

ইসলামিক দাওয়ার দুটি কিঞ্চিৎ পরীক্ষা

বর্তমান সময়ে ইসলামিক দাওয়ার দুটি শ্রেণী লক্ষ্য করলাম এবং কিঞ্চিৎ পরীক্ষাও করলাম।

১। জনপ্রিয় দাওয়া - এই প্রকারের দাওয়ার নাম শুনলে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করে। কারণ এই জাহেল সময়ে দাওয়া জনপ্রিয় হওয়া ভয়াবহ ব্যাপার। তবুও হকপন্থি অনেক আলিম, শায়খ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন এবং তা দ্বীনের জন্য মঙ্গলজনকও বটে। কিন্তু হকের দাওয়া করে এটাকে জনপ্রিয় করে তোলা আর জনগণের মনমত দাওয়া করা দুইটার মাঝে সমূহ পার্থক্য বিদ্যমান।

র্তমান সময়ে মানুষ যখন প্রবৃত্তির দাসত্ব মেনে নিয়েছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের ''টিকে থাকার প্রবণতার'' ( survival instinct) সাথে যে উপদেশ বাণী বিরুদ্ধাচরণ করে না, তা তারা খুব ভালভাবে গ্রহণ করে। তাই পারিবারিক আইন আর রাজনীতি ব্যতিত মু'য়ামালাত সংক্রান্ত ইসলামিক নীতি অনেকেই গ্রহণ করে এবং এই বিষয়ের দাওয়া যারা করেন উনাদের খুব বেশি প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয় না। যেমন- বলা যায় যে তাবলীগের ভাইদের নাকি ইসরায়েলেও বাধা দেয় না। না, আমি সমালোচনা করছি না। এটাকে হকের বাইরেও বলছি না। কিন্তু কিছু বিষয়কে পাশ কাটিয়ে দাওয়া করা ঠিক পরিপূর্ণ ইসলামকে উপস্থাপন করে না।

এই ক্ষেত্রে আরও মজার ব্যাপার হল পারিবারিক আইনগুলোতে পর্যন্ত যেটুকু যার কাজে লাগে ওইটুকু নেয়ার মানসিকতা একটি ভয়াবহ ব্যাধি। কয়েকদিন আগে বিবাহ পরবর্তী আলাদা বাসায় থাকা নিয়ে একটি পরীক্ষামূলক পোস্ট দিয়েছিলাম। কথাগুলো আমার জানামতে হক বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু যে পর্দা রক্ষার জন্য আলাদা থাকা সে পর্দা রক্ষা না করে প্রোফাইল পিক এ বেপর্দা ছবি দেওয়া বোনও ঐটা শেয়ার করেছেন। আরেকজন দেখি প্রেমিককে ট্যাগ করে শেয়ার দিয়েছেন। কি এক অবস্থা!!!!!!!! ( হয়ত এই পোস্টের পর বোনেরা আমার স্ট্যাটাস এ লাইক, শেয়ার বন্ধ করে দিবেন, তবু সত্য বলতেই হবে)

যাইহোক যারা এই ধরণের দাওয়া করতে পছন্দ করেন, উনারা হয়ত সাময়িক জনপ্রিয়তা পাবেন। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হল আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়ার আর কিছুই রইল না।

২। অজনপ্রিয় দাওয়া - এইসব দাওয়াকারীগণ দুনিয়ার কোন ধরণের আকর্ষণে নয়, বরং এই বিশ্বজাহানের প্রতিপালকের সন্তুষ্টির জন্য দাওয়া করে থাকেন। কে কি মনে করল, কি ট্যাগ দিল, কোন দলের প্রতিনিধি বানাল, কতটুকু গ্রহণ করল এইসব উনাদের চিন্তার অনেক দূরে। এই সমস্ত মহামানবেরা গুটিকয়েক মানুষের হয়ত পরিচিত, হয়ত কেউ উনাদের চেহারাও ঠিকমত চিনে না। কিন্তু একসময় এই হকের দাওয়ার আওয়াজ বুলন্দ হয়। হয়ত তখন তিনি দুনিয়াতেই নাই। এই প্রসঙ্গে রাসুল(সাঃ) এর সাহাবা(রাঃ) গণের কিংবা তাবীঈগণের উদাহরণ দিতে পারি। তবে আমি এই শতকের দুইজন মহামানবের উদাহরণ দিব।

ইমাম আনোয়ার আল আউলাকি(রহিঃ), যিনি আমেরিকার মত জায়গায় জন্মেছিলেন আর অনেক বড় বড় ডিগ্রীও নিয়েছিলেন। ইচ্ছা করলে হোয়াইট হাউসের আস্থাভাজন হয়ে পৃথিবীব্যাপী চরম জনপ্রিয় লোক হিসাবে নিজের জীবন কাটিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু এই আল্লাহর প্রিয় বান্দা নিজের জীবনকে জিহাদের ময়দানে কাটিয়ে অবশেষে সেই মার্কিন ড্রোনের আঘাতে শাহাদাত বরণ করলেন। রেখে গেলেন কোটি তরুনের জীবনের গতিপথ পাল্টে দেয়া কিছু লেকচার। আল্লাহ্‌ উনাকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন।

আল্লাহ্‌র রাসুলের(সাঃ) সাহাবী হজরত তামিম আত দারির(রাঃ) উত্তরপুরুষ, বিখ্যাত মুজতাহিদ শায়খ ইয়ুসুফ আন নাবাহানির নাতি, যার মা বাবা দুইজনই ছিলেন মুজতাহিদ সেই শায়খ তাকি উদ্দিন আন নাবাহানি(রহিঃ)। জর্ডান শরিয়া আদালতের বিচারক ছিলেন। কিন্তু শরিয়ার প্রয়োগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর চাকরি ছেড়ে দিলেন আর খিলাফাহ পুনঃ প্রতিষ্ঠার কাজে আত্মনিয়োগ করলেন। জর্ডান সীমান্তে ইসরায়েল বিরোধী জিহাদেও ছিলেন। অবশেষে দ্বীনের পরিশুদ্ধ রূপ খুঁজতে গিয়ে নিজের পরিচিতি, প্রতিপত্তি কোন কিছুর দিকে খেয়াল রাখেন নাই। নিদাম উল ইসলাম, আত তাকাতুল আল হিজবি, আত দউলা আল ইসলামিয়াহ, আত তাফকির এর মত কালজয়ী কিছু বই লিখে গেলেন। খিলাফাহ পুনঃ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করতে গিয়ে হিজব উত তাহরির এর প্রতিষ্ঠা করলেন।

দাওয়ার কাজে বহুবার নির্যাতিত হলেন। অবশেষে জর্ডান সীমান্তে সীমান্ত রক্ষীদের হাতে ধরা পড়লেন। কিন্তু তখনও রক্ষীরা চিনতে পারেনি এই লোক কে? কারণ তিনি জর্ডান সরকারের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিলেন। যখন জিজ্ঞাসা করল, আপনি কে? উত্তরে বললেন, আমি একজন বৃদ্ধ মানুষ যে চিকিৎসার খোঁজে বের হয়েছে। উনার কথার অর্থ হল উনি অসুস্থ উম্মাহর চিকিৎসার খোঁজে বের হয়েছেন। তারা অনেক নির্যাতন করে ছেড়ে দিল। এবং ঐ আহত অবস্থায় উনার মৃত্যু হয়। অল্প কিছু মানুষ উনার জানাজা পড়েন। অবশেষে সত্যিকারের ''গুরাবা'' বা অপরিচিতের মত এই দুনিয়া ছেড়ে যান। আল্লাহ্‌ উনাকে কবুল করুন, জান্নাতুল ফিরদাউসের বাসিন্দা করুন এবং উনার খিলাফাহ প্রতিষ্ঠার দাওয়াকে পূর্ণতা দান করুন, এই মুসলিম উম্মাহকে খিলাফাহর ছায়ায় নিয়ে আসুন। আমিন





দাওয়াহ এবং জিহাদ দুইটাই ইসলামি রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ।।
 
মুজাহিদ বলতে কেবল প্রত্যক্ষভাবে জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহরত মুসলিমদের বুঝানো হয় ।। কোন ব্যক্তি যতক্ষণ অবধি প্রত্যক্ষ জিহাদে অংশগ্রহন করবে করবে না ততখন অবধি তাকে মুজাহিদ বলাটা বোকামি এবং ভুল ।। তবে একজন মুসলিমকে অবশ্যই মুজাহিদ এবং শহীদ হবার কমপক্ষে আন্তরিক ইচ্ছাটুকু রাখতে হবে ।। নুন্যতমভাবে আন্তরিক ইচ্ছাটুকু যদি না থাকে তবে সে মুসলিম নয় , মুনাফিক ।। সহিহ দুই খানা হাদিস দ্বারা যেসব ব্যক্তি কমপক্ষে হলেও জিহাদে অংশগ্রহন করার এবং শহীদ হবার আন্তরিক ইচ্ছাটুকু না রাখে তাদেরকে মুনাফিক হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে ।।
তবে জিহাদ অংশগ্রহন করার আগে অবশ্যই সংঘটিত হওয়া জরুরী ।। কারন জিহাদ একতাবদ্ধ অর্থাৎ জমায়েতবদ্ধভাবে করতে হয় ।। ইসলামি রাষ্ট্র অর্থাৎ খিলাফাহ না থাকলে তখন জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহের প্রাথমিক লক্ষ্য হবে খিলাফাহকে ফিরিয়ে আনা কারন খিলাফাহ অর্থাৎ ই্সলামি রাষ্ট্র ছাড়া তাওহিদ প্রতিষ্ঠা অসম্ভব এবং জিহাদের মূল লক্ষই হল আল্লাহর জমিনে তাওহিদ প্রতিষ্ঠা করা ।। আল - কুরআনে সালাতের (নামাজের ) হুকুম থেকেও বেশি এসেছে জিহাদের হুকুম ।। তাই শরিয়ার দৃষ্টিকোণ হতে সালাত এবং জিহাদের বিরোধিতা করা একই ধরনের জঘন্য অপরাধ ।।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন